—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
রাজ্য বাজেটে ১ কোটি ১১ লক্ষ পড়ুয়াকে মিড-ডে মিল দেওয়ার কথা বলেছে সরকার। অথচ, সম্প্রতি অতিরিক্ত ডিম এবং মরসুমি ফল দেওয়া সংক্রান্ত মিড-ডে মিলের বিজ্ঞপ্তিতে ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়ার কথা বলেছে শিক্ষা দফতর। এই সংখ্যার ফারাক নিয়েই এ বার প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বাজেটে ঘোষিত সংখ্যার থেকে বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ লক্ষ পড়ুয়া কমে গেল কেন? তা হলে কি ওই ৩০ লক্ষ পড়ুয়ার জন্য বরাদ্দ হওয়া টাকা তহবিলেই রয়ে গেল? প্রসঙ্গত, ওই বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ মার্চের মধ্যে পড়ুয়াদের ১২ দিন অতিরিক্ত একটি করে ডিম ও একটি করে মরসুমি ফল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, জেলার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের জন্য সারা বছরে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা থেকে যা বেঁচে যাবে তা দিয়েই এই অতিরিক্ত ডিম ও ফল দেওয়া হচ্ছে। তা হলেও প্রশ্ন উঠছে, অব্যবহৃত বরাদ্দ থেকে ৩০ লক্ষ পড়ুয়াকে বাদ দেওয়া হল কেন? মিড-ডে মিল বিভাগের এক কর্তার দাবি, ‘‘বাজেটে বলা হয়েছে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক মিলে মোট ১ কোটি ১১ লক্ষ পড়ুয়া মিড-ডে মিল পাওয়ার জন্য অনুমোদিত। কিন্তু আমরা দেখেছি, ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়া নিয়মিত মিড-ডে মিল খায়। তাই ওই পড়ুয়াদের জন্যই অতিরিক্ত ডিম বা ফল বরাদ্দ হয়েছে। বেঁচে যাওয়া বরাদ্দ থেকে আগেও অতিরিক্ত ডিম ও ফল দেওয়া হয়েছে।’’ যদিও অতিরিক্ত ডিম ও ফল দেওয়ার পিছনে ‘ভোট-রাজনীতি’ কাজ করছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষকদের একাংশ।
বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হান্ডা বলেন, মিড-ডে মিলের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পড়ুয়ারা ২৪৮ দিন মিড-ডে মিল পায়। মিড-ডে মিল না খাওয়া ৩০ লক্ষ পড়ুয়াদের সবাই প্রাথমিকের হলে (মাথাপিছু দৈনিক ৬ টাকা ৭৮ পয়সা করে বরাদ্দ) ৫০৮ কোটি ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বাঁচে। সবাই উচ্চ প্রাথমিকের হলে (দৈনিক মাথাপিছু বরাদ্দ ১০ টাকা ১৭ পয়সা) মোট ৭৫৬ কোটি ৬৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বাঁচবে। অথচ অতিরিক্ত ডিম ও ফলের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭৭ কোটি ৯৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। তা হলে বাকি টাকা কী হল? তবে কি ওই টাকা তহবিলেই থেকে যাবে?
শিক্ষকদের অনেকেই বলছেন, ঠিক মতো হিসাব করলে দেখা যায়, শুধু ১২ দিন নয়, আরও বেশি দিন অতিরিক্ত ডিম ও ফল দেওয়া যেতে পারে। এমনকি, মাথাপিছু দৈনিক বরাদ্দ বাড়ানোও সম্ভব।