(বাঁ দিকে) মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানি-পর্বে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিল সিপিএম ও কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রয়াণ দিবসে, ১৭ জানুয়ারি রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভে নামবে সিপিএম। জ্যোতিবাবুর করা ‘বিজেপি অসভ্য, বর্বরের দল’ মন্তব্যকে স্লোগান হিসেবে রেখে নানা প্রশ্নে বিক্ষোভ হবে। কলকাতা-সহ নানা জায়গায় কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত। আর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে কংগ্রেসের ধর্না-বিক্ষোভ হবে আগামী ২০ জানুয়ারি। এসআইআর নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি রয়েছে ওই দিনই।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বক্তব্য, ‘‘এসআইআর যখন বিহারে হল, তখন তথ্যগত অসঙ্গতি (‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’) বলে কিছু ছিল না। আমাদের রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরুর সময়েও বলা হয়নি। খসড়া তালিকা বেরোনোর পরে এই বিষয়টি আনা হল কী করে? জোর করে নাম বাদ দিতেই হবে, এই কারণে?’ কাদের নির্দেশে হচ্ছে এ সব?’ তাঁদের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’র নামে চরম ‘ইললজিক্যাল’ (অযৌক্তিক) কাজ হচ্ছে! যুক্তির ধার ধারছে না কমিশন। সিপিএমের প্রশ্ন, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় ‘আনম্যাপড’, অর্থাৎ ২০০২-এর তালিকার সঙ্গে কোনও সংযোগ মেলেনি, এই সংখ্যা ছিল সব চেয়ে কম। অথচ এ সব জেলাতেই এখন গুচ্ছ গুচ্ছ নোটিস পাঠানো হচ্ছে কী করে? নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন, প্রাক্তন মন্ত্রী কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষকে যে ভাবে যথেচ্ছ শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, সেই অভিযোগ ও আরও কিছু প্রশ্ন তুলে সিইও-কে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। এসআইআর-এর শুনানিতে মহিলা, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি, আদিবাসী-সহ প্রান্তিক মানুষের হয়রানির প্রতিবাদে ব্লকে ব্লকেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিপিএম। সব বাম দলই এই প্রতিবাদে নামছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও বলেছেন, ‘‘ভোটের আগে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কমিশন এসআইআর করছে, তার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে। শুনানির নামে চরম অব্যবস্থা চলছে। অসুস্থ, গরিব মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। নথি জমা দিলে কোনও প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না। এরই প্রতিবাদে কমিশনের রাজ্য দফতরে ধর্না-অবস্থান করব আমরা।’’ নোটিস-সহ শুনানি প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে বুধবার সিইও দফতরে গিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা প্রশান্ত দত্ত, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়েরা।
অন্য দিকে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে এ দিন বামফ্রন্টের দুই শরিক আরএসপি এবং সিপিআইয়ের সঙ্গে সিপিএমের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও আসন নিয়ে নির্দিষ্ট রফা-সূত্র বেরোয়নি। আবার বৈঠক ডাকা হয়েছে আগামী সপ্তাহে। আইএসএফ এবং বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে সিপিএমের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছিল মঙ্গলবার। সিপিএম সূত্রের খবর, আইএসএফ যা আসন দাবি করছে, তা কমিয়ে এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি আনার চেষ্টা চলছে।