Cash for Query Case

দু’মাস সময় দিলাম, আর নয়! সিবিআই চার্জশিট নিয়ে মহুয়া মৈত্রের মামলায় লোকপালকে জানিয়ে দিল দিল্লি হাই কোর্ট

শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ জানিয়েছে, লোকপালের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত দু’মাস সময় বৃদ্ধি করছে। তবে তার পরে আর কোনও সময় দেওয়া হবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দিল আদালত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৯
Delhi High Court gets more time to Lokpal over granting of sanction to file chargesheet against Mahua Moitra

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। — ফাইল চিত্র।

সংসদে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট পেশের অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করার জন্য আরও সময় চাই বলে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেছিল লোকপাল। সেই আবেদন মঞ্জুর করল আদালত। আরও দু’মাস সময় দেওয়া হয়েছে লোকপালকে বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করার জন্য। তবে তার সঙ্গে ‘শর্তও’ বেঁধে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।

Advertisement

শুক্রবার দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ জানিয়েছে, লোকপালের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাদের দু’মাস সময় বৃদ্ধি করছে। তবে তার পরে আর কোনও সময় দেওয়া হবে না, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে দিল্লি হাই কোর্ট।

সংসদে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-কে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল লোকপাল। সেই অনুযায়ী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত করে বিস্তারিত রিপোর্ট লোকপালের দফতরে জমা দেয়। তদন্তে যা যা উঠে এসেছে, রিপোর্টে তা ব্যাখ্যা করে সিবিআই মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অনুমতি চেয়েছিল। গত বছরের ১২ নভেম্বর লোকপালের সম্পূর্ণ বেঞ্চ সিবিআইকে চার্জশিট দেওয়ার অনুমতি দেয়। বলা হয়, চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আদালতে।

লোকপালের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। আদালতে মহুয়া জানান, লোকপালের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। যে প্রক্রিয়ায় সিবিআই-কে অনুমতি দিয়েছে লোকপাল, তা ত্রুটিপূর্ণ বলেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মহুয়া। একই সঙ্গে নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও চান। মহুয়ার আর্জি ছিল, যত দিন বিষয়টি দিল্লি হাই কোর্টে বিচারাধীন, তত দিন যেন সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না-করে, তা নিশ্চিত করা হোক।

গত ১৯ ডিসেম্বর বিচারপতি বৈদ্যনাথন শঙ্করের বেঞ্চ লোকপালের চার্জশিট সংক্রান্ত নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভ্রান্তি ছিল লোকপালের। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে দেখে এক মাসের মধ্যে লোকপালকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। তার পরেই লোকপাল আরও সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল। মহুয়ার আইনজীবীও আদালতে জানান, লোকপালের এই আবেদনে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। শুনানি শেষে আরও দু’মাস সময় বর্ধিত করল দিল্লি হাই কোর্ট।

উল্লেখ্য, মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি সংসদে প্রশ্ন করেছেন। নিশানা করেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানিকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্যই মহুয়া এই কাজ করেছেন। এই অভিযোগ জানিয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে মহুয়াকে সাংসদপদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। এ ছাড়া, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তাঁর প্রাক্তন বন্ধু জয় অনন্ত দেহাদ্রাইও।

সেই মামলার তদন্ত শেষে সিবিআই তাদের রিপোর্টে জানিয়েছিল, ঘুষ নিয়ে সংসদে মোট ৬১টি প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সামনাসামনি, অফলাইন মাধ্যমে। বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে আপলোড করা হয়েছিল। হীরানন্দানি নিজেই হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিলেন, মহুয়ার সংসদের লগ ইন আইডি জেনে তাতে প্রশ্ন পোস্ট করতেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন