Manirul Islam on Farakka BDO Office Incident

‘আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না, সংবিধান মানি’, শুনানিকেন্দ্রে তাণ্ডবে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল চিঠি দিলেন ইআরও-কে

এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩০
তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের চিঠি প্রশাসনকে।

তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের চিঠি প্রশাসনকে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল। সংবিধান মেনে চলেন। এসআইআর প্রক্রিয়া ভন্ডুলের কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। গত ১৪ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা মতপ্রকাশ মাত্র। এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে হামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম লিখিত ভাবে এ কথাই জানালেন এইআরও-কে। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার পরে জঙ্গিপুর মহকুমা প্রশাসনকে চিঠি পাঠালেন ফরাক্কার বিধায়ক।

Advertisement

শুক্রবার এসআইআরের কাজের দায়িত্বে থাকা ইআরও-কে পাঠানো চিঠিতে মনিরুল জানান, নির্বাচন কমিশন, তাদের আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। তিনি সর্বদা সংবিধান মেনে চলেন এবং আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন। তবে কোথাও হয়তো শব্দচয়ন ভুল হয়েছিল। গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসের সামনে যা বলেছিলেন, তা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা নষ্টের উদ্দেশ্যে বলেননি। ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করাও তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তাঁর বক্তব্য আদতে এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার প্রক্রিয়া মানুষের সুবিধার জন্য এবং ভোটাধিকার ঠিক ভাবে প্রয়োগ করার জন্য, যা সুপ্রিম কোর্টও বিবেচনা করেছে। চিঠিতে মনিরুল লেখেন, ‘‘আমার বক্তব্যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য, উস্কানি বা আইন ভাঙার চেষ্টা ছিল না। যদি কেউ ভিন্ন অর্থ করে থাকেন, তবে তা আমার অনিচ্ছাকৃত। আমি সব সময় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাদের দেওয়া সমস্ত আইনসম্মত নির্দেশ মেনে চলব।’’

গত ১৪ জানুয়ারি দুপুরে ধন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় ফরাক্কার বিডিও অফিসে। ঠিক তার আগেই কয়েক জন বিএলও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তখন দলবল নিয়ে সেখানে ঢোকেন বিধায়ক মনিরুল। অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে, এই দাবি তোলেন তাঁরা। তার পর বিডিও অফিসের প্লাস্টিকের চেয়ার এবং আসবাব ভাঙচুর করা হয়। বিডিও অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে মনিরুল বলেন, ‘‘এসআইআরের নামে রাম আর রহিমের মধ্যে বিবাদ বাধানো হচ্ছে। কারও নাম রাম শুনলে কোনও নথি লাগছে না। রহিমের নাম শুনলেই চোদ্দো গুষ্টির খতিয়ান চাইছেন! নির্বাচন কমিশনের এই দ্বিচারিতা মানব না। ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে যদি গুলি খেতে হয়, মনিরুল ইসলাম আগে গুলি খাবে।’’

ঘটনাক্রমে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারকে ফোন করেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওই দিনই ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু তার পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই সময় পেরিয়ে প্রায় এক দিন গড়িয়ে যায়। তার পরেও এফআইআর দায়ের হয়নি। ঠিক এই সময়ে বিধায়ক মনিরুল চিঠি দিলেন প্রশাসনকে।

Advertisement
আরও পড়ুন