কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। —ফাইল চিত্র।
পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডের তদন্ত করতে শনিবার সকাল থেকে সক্রিয় ইডি। কলকাতা ও শহরতলির মোট সাতটি জায়গায় তারা হানা দিয়েছে। একটি দল গিয়েছে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের বাড়িতেও। মদনের ভবানীপুর এবং কালীঘাটের বাড়িতে সকাল থেকে তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর। মদন কোন বাড়িতে আছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মদনের বাড়ি ছাড়াও ইডি-র একটি দল গিয়েছে বেহালার দিকে। এ ছাড়া, দক্ষিণেশ্বর, সন্তোষপুর, জোকা, বেলেঘাটায় গিয়েছে ইডি। একাধিক পুরসভায় দুর্নীতির তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই সূত্রে তাদের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সূত্রের খবর, কামারহাটি পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ের খোঁজ নিতে মদনের বাড়িতে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকেরা।
শুক্রবার রাতেই কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে হেনস্থার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন মদন। কামারহাটির সকল কাউন্সিলরকে তিনি পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘‘কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহার সঙ্গে যে নোংরা ব্যবহার করে সমস্ত পরিষেবা আটকে দেওয়া হয়েছে, তাতে তাঁর পদত্যাগ করা ছাড়া কোনও পথ ছিল না। সকল কাউন্সিলর এবং তৃণমূল সমর্থকদের এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে শামিল হতে হবে। বিজেপির অপমান এবং নোংরামির একমাত্র জবাব পদত্যাগ। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূলকে জিতিয়ে আবার পুরসভায় তৃণমূলের পতাকা ওড়াব। আস্থা রাখুন।’’ মদনের এই ঘোষণার পরের দিন সকালেই তাঁর দু’টি বাড়িতে ইডি হানা দিল।
বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। কিন্তু পদ্মের ঝড়ের মধ্যেও কামারহাটি আসন ধরে রেখেছেন মদন। তবে তাঁর দল সঙ্কটে। দলের অন্দরে নানা বিভাজন দেখা দিয়েছে। দিকে দিকে পুরসভার কাউন্সিলরেরা গ্রেফতার হচ্ছেন। অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে তোলাবাজির অভিযোগ। এ বার কামারহাটিতে মদনও পুরসভা সংক্রান্ত তদন্তেই কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে। এর আগে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। এ বার গেল ইডি।