Sand Smuggling Case

বালি পাচারকাণ্ডে চার্জশিট জমা দিল ইডি! দাবি: ১০০ কোটিরও বেশি টাকার দুর্নীতি, নাম জানাল ১৮ অভিযুক্তের

বালি পাচার মামলার তদন্তে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায় ইডি। সেই সূত্র ধরেই গত নভেম্বরে হাওড়া থেকে গ্রেফতার হন এক ব্যবসায়ী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫২
শনিবার বিচার ভবনে বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা করেছে ইডি।

শনিবার বিচার ভবনে বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা করেছে ইডি। — ফাইল চিত্র।

বালি পাচার মামলায় এ বার চার্জশিট জমা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার কলকাতার বিচার ভবনে এই চার্জশিট জমা করেছেন তদন্তকারীরা। ইডির দাবি, এই ঘটনার তদন্তে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে তারা। সূত্রের খবর, চার্জশিটে মোট ১৮ অভিযুক্তের নাম রয়েছে।

Advertisement

অভিযুক্তদের এই তালিকায় রয়েছেন ব্যবসায়ী অরুণ সরফও। তাঁর তিন কর্মচারীর নামও রয়েছে। চার্জশিটে ১৮ অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছে ১৪টি সংস্থার নামও। এর মধ্যে রয়েছে অরুণের সংস্থার নামও। চার্জশিটের সঙ্গে প্রায় ৪৭০০ পাতার নথিও জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। আগামী সোমবার বিচার ভবনে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

বালি পাচার মামলার তদন্তে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। জেলায় জেলায় অভিযান চলেছে ইডির। এমনই এক অভিযানের সময়ে গত বছরের নভেম্বরে ইডির হাতে গ্রেফতার হন অরুণ সরাফ। ইডি সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৭৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আগেই অরুণের সল্টলেকের অফিসেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকেরা।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অরুণকে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। শেষমেশ হাওড়ার বালি এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি। তার পরেই বালি পাচার মামলায় ইডির হানা শুরু হল নানা জায়গায়। নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে অরুণ বালি পাচার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারী সূত্রে আগেই জানা যায়, নিজের নামে কোনও হিসাব রাখেননি তিনি। ১০৩ কোটি টাকার বালি বিক্রির কথা বললেও তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ১৩০ কোটি টাকা।

অরুণ ইডি হেফাজতে থাকাকালীন বালির স্টক মিলিয়ে দেখতে ১৩টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু দেখা গিয়েছে, বাস্তব এবং খাতায়কলমে বালির যে হিসাব রয়েছে, তাতে গরমিল ধরা পড়েছে। ইডি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে বালির স্টক খতিয়ে দেখছে। তাতেও অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বেআইনি ভাবে বালি খনন এবং বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে এই অরুণের বিরুদ্ধে। ভুয়ো ই-চালান ব্যবহার করেছেন। সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং সরকারি নিয়মে ফাঁকি দিয়েছেন, এমন অভিযোগও উঠে এসেছে। গ্রেফতারির পর থেকে এখনও জেলবন্দিই রয়েছেন অরুণ।

Advertisement
আরও পড়ুন