Ek Dake Abhishek

আবার ‘এক ডাকে অভিষেক’! মামলায় জর্জরিত, ময়দানেও নেই, কাজে দেবে কি কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা, প্রশ্ন দলেই

২০২১ সালের পরে মূলত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ‘এক ডাকে অভিষেক’ শুরু হয়েছিল। তার পরে তা বহর বাড়িয়ে শুরু সারা রাজ্যের জন্যই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ১৬:১৬
Ek Dake Abhishek is restarting to assist TMC workers

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ক্ষমতায় থাকার সময়ে ‘দিদিকে বলো’র সমান্তরাল ভাবে তৃণমূল সাংগঠনিক ভাবে শুরু করেছিল ‘এক ডাকে অভিষেক’। ক্ষমতা থেকে সরার দু’মাসের মধ্যেই তৃণমূল যখন ত্রিধাবিভক্ত হয়ে গিয়েছে, তখন পুরনো কর্মসূচি ফের শুরু করতে চলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ঘোষণা করেছেন অভিষেক নিজেই।

Advertisement

তৃণমূল শুধু ক্ষমতা থেকে চলে গিয়েছে তা-ই নয়, অভিষেকও নানাবিধ মামলার চক্রব্যূহের মধ্যে রয়েছেন। তাঁকে ভোটের পরে বেশ কয়েক বার জিজ্ঞাসাবাদ করে ফেলেছে ইডি, সিআইডি। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে কার্যত মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিআইডি। নিজে যখন এই অবস্থায়, তখন ফের পুরনো কর্মসূচি নতুন আঙ্গিকে শুরু করার ঘোষণা করলেন অভিষেক।

সমাজমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘ঘরছাড়া, নিপীড়িত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়িত কর্মীদের সুবিধার্থে যে কোনও আইনি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করুন।’’ যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরে তৃণমূল শুধু ভাঙেনি, মাঠময়দান থেকেও কার্যত ‘উবে’ গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দু’দিন ধর্মতলা চত্বরে ধর্না ও মিছিল করলেও সেই অর্থে আন্দোলনমুখী হয়ে রাস্তায় নামেননি। মে মাসের শেষে অভিষেক গিয়েছিলেন সোনারপুরে ‘ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত’ এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। সে দিনই তাঁকে স্থানীয়দের একাংশের তুমুল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল। ডিম ছোড়ার পাশাপাশি, তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয়েছিল সোনারপুরের সরু গলিতে। হেলমেট পরে কোনওক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি যখন এমনই, তখন এই কর্মসূচি কতটা দাগ কাটবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তৃণমূলের অন্দরেই।

বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূলের পরিষদীয় দলের মুখ্যসচেতক তথা মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ‘‘ফোন করে যদি কর্মীরা দলকে পাশে পেত, তা হলে আর সংগঠনের প্রয়োজন হত না। ফোন, অনলাইনে মিটিং— এই সব করেই উনি (অভিষেক) তৃণমূলটাকে শেষ করেছেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গেলে তাঁদের কাছে পৌঁছোতে হয়। সেটা আমরা করব।’’ কালীঘাট তৃণমূলকে অস্বীকার করে বিরোধী দলনেতা হওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘চার্টার্ড বিমানের পয়সা কর্মীদের বিপদে কাজে লাগুক।’’

২০২১ সালের পরে মূলত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের জন্য ‘এক ডাকে অভিষেক’ শুরু হয়েছিল। তার পরে তা বহর বাড়িয়ে শুরু সারা রাজ্যের জন্যই। নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বাইরে নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ অনুষ্ঠিত করার নেপথ্যেও ছিল এই ‘এক ডাকে অভিষেক’। তখন তৃণমূল ক্ষমতায়। অভিষেক ১৯ গাড়ির কনভয় নিয়ে চলাফেরা করেন। তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশি নিরাপত্তার দুর্গ ছিল। পালাবদলের পর সেই ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। সেই নতুন প্রেক্ষাপটে পুরনো কর্মসূচি নিয়ে অভিষেক কতটা ক্ষত মেরামত করতে পারেন, তা ভবিষ্যৎই বলবে।

Advertisement
আরও পড়ুন