SIR in West Bengal

‘৫ বছর পরেও ভোটার তালিকায় বিদেশির নাম পেলে পদক্ষেপ’! রাজ্যের ৭ জেলাশাসককে নানা কারণে সতর্ক করল কমিশন

শুক্রবারের বৈঠকে অন্তত সাতটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষে এখন নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। তাতে অনেক গলদ ধরা পড়ছে। কমিশন তাতে বিরক্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৫৫
পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই এসআইআরের শুনানি শেষ, চলছে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।

পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই এসআইআরের শুনানি শেষ, চলছে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও গরমিল বরদাস্ত করবে না নির্বাচন কমিশন। বিদেশি কোনও নাগরিক যাতে চূড়ান্ত তালিকায় থেকে না-যান, তা নিশ্চিত করতে হবে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।

Advertisement

কমিশনের সম্পূর্ণ বেঞ্চ ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠক করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিককে যদি পাঁচ বছর পরেও শনাক্ত করা যায়, তা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। বহু বছর পর্যন্ত এই সমস্ত নথি সংরক্ষিত থাকবে কমিশনের কাছে।

কমিশনের সম্পূর্ণ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক (ইআরও) এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকেরা (এইআরও)। চূড়ান্ত তালিকায় গলদ ধরা পড়লে এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে কমিশন। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। কোনও আইএএস অফিসারের দীর্ঘ কর্মজীবনে তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, সতর্ক করে দিয়েছে কমিশন।

শুক্রবারের বৈঠকে অন্তত সাতটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। এসআইআরের নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ায় ভর্ৎসিত হয়েছেন কোচবিহারের জেলাশাসক। এ ছাড়া, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসকের সমালোচনা করা হয়েছে ভার্চুয়াল বৈঠকে। তালিকায় ছিলেন কোচবিহারের জেলাশাসকও। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসককে রাজনৈতিক মন্তব্য না-করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র বিরুদ্ধেও ওই নেতাকে সমর্থন জানিয়ে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এর জন্য ওই জেলার জেলাশাসকের কাছে কৈফিয়ত চেয়েছে কমিশন। কোন ক্ষমতাবলে ইআরও, এইআরও-রা মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ডেকে পাঠাচ্ছেন, প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই এসআইআরের শুনানি শেষ হয়েছে। এখন চলছি নথি যাচাইয়ের কাজ। এই কাজের জন্য মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের নিয়োগ করেছে কমিশন। বৈঠকে পর্যবেক্ষকদের বলা হয়েছে, কোথাও কোনও ডিইও, ইআরও বা এইআরও নিয়ম ভাঙলে বা কেউ ভুল করলে তা কমিশনকে জানাতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, শুনানিতে জমা পড়া নথি অপাঠ্য। কেউ কেউ আবার এমন নথি জমা দিয়েছেন, যা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। কী ভাবে সেই নথি জমা নেওয়া হল, প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এই ঘটনাগুলি সরাসরি কমিশনকে পাঠাতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুনানিতে জমা পড়া সমস্ত নথি কমিশনের অনুমোদিত, নিশ্চিত করতে হবে ডিইও-দের। তাঁরা ব্যক্তিগত ভাবে যাচাই করে তা নিশ্চিত করবেন। সময় দেওয়া হয়েছে আগামী সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়ের পর যদি অননুমোদিত কোনও নথি কমিশনের সিস্টেমে থাকে, সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে ব্যক্তিগত ভাবে তার জন্য দায়ী করা হবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে কমিশন। ভুয়ো এবং তৈরি করা নথি আপলোড করার জন্যেই এই ধরনের অননুমোদিত নথি আপলোড করা হয়েছে কি না, প্রশ্ন তোলেন কমিশনের আধিকারিকেরা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা বা অস্পষ্ট ও অপাঠ্য ছবি নথি হিসাবে আপলোড করা হয়েছে। বিষয়টি ভাল চোখে দেখছে না নির্বাচন সদন।

Advertisement
আরও পড়ুন