EROs Controversial WhatsApp directive

বিতর্কিত হোয়াট্‌সঅ্যাপ বার্তায় ইআরওদের নির্দেশ! অতিরিক্ত জেলাশাসকের বিরুদ্ধে তদন্তের পথে নির্বাচন কমিশন

হোয়াট্‌সঅ্যাপ বার্তায় জেলাশাসক ইআরও-দের স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ভোটারদের শুনানি গ্রহণের পর যেন কেউ ‘নট ভেরিফায়েড’ বা ‘যাচাই হয়নি’ অপশনে ক্লিক না করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:০৯
EROs told not to use ‘not verified’ option! Controversial WhatsApp directive in the face of Commission’s investigation against ADM

—প্রতীকী চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটারদের শুনানি নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতিরিক্ত জেলাশাসকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে নির্বাচনী রোল অবজ়ার্ভার তথা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) উদ্দেশে নিয়ম বহির্ভূত নির্দেশ দিয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

Advertisement

কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, ওই হোয়াট্‌সঅ্যাপবার্তায় অতিরিক্ত জেলাশাসক ইআরও-দের স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, ভোটারদের শুনানি গ্রহণের পর যেন কেউ ‘নট ভেরিফায়েড’ বা ‘যাচাই হয়নি’ অপশনে ক্লিক না করেন। বরং প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার ভোটারের তথ্য ‘ভেরিফায়েড’ হিসাবে আপডেট করার লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, শুনানির পরেও যদি কোনও নথি বা পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে, তবু তা ‘যাচাই সম্পন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করার চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক এই নির্দেশকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এক জন অতিরিক্ত জেলাশাসক কী ভাবে ইআরও-দের এমন নির্দেশ দিতে পারেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রতিটি সিদ্ধান্ত কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনেই হওয়ার কথা। ‘নট ভেরিফায়েড’ অপশন বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হল, প্রকৃত যাচাই প্রক্রিয়াকে কার্যত অস্বীকার করা। এতে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।” ওই আধিকারিক আরও বলেন, ‘‘এই নির্দেশ কার পরামর্শে বা কোন উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে এমন চাপ তৈরি হলে ইআরও-রা স্বাধীন ভাবে তথ্য যাচাই করতে পারবেন না।”

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া বার্তাগুলির স্ক্রিনশট ও ডিজিটাল লগ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ইআরও এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা তলব করা হতে পারে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘ভেরিফায়েড’ ও ‘নট ভেরিফায়েড’ ট্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নথির সামান্য ঘাটতি থাকলেও ‘নট ভেরিফায়েড’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিধান রয়েছে, যাতে পরবর্তী পর্যায়ে সঠিক যাচাই সম্ভব হয়। সেই অপশন ব্যবহার না করার নির্দেশ মানে কার্যত নিয়মভঙ্গ। সব মিলিয়ে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসকের বিতর্কিত নির্দেশ শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নই নয়, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল বলেই অভিযোগ করছে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি। কমিশনের তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

Advertisement
আরও পড়ুন