অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
একই দিনে জোড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। এক দিকে নন্দীগ্রামের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ফিজ়িওথেরাপিস্ট নিয়োগ, অন্য দিকে বাঁকুড়ায় পাথর খাদান চালুর জন্য নিলাম শুরুর কথা জানাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই দুই বিষয় নিয়ে নন্দীগ্রাম এবং বাঁকুড়ার সভা থেকে আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে কোনও ফিজ়িওথেরাপিস্ট নেই! বৃহস্পতিবার অভিষেককে কাছে পেয়ে অনুযোগ জানিয়েছিলেন স্থানীয় কয়েক জন। আশ্বাস দিয়েছিলেন ব্যবস্থা করা হবে। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না-কাটতেই নন্দীগ্রাম হাসপাতালে দু’জন ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শৌভিক জানা এবং অনিন্দ্যসুন্দর ভুঁইয়াকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শৌভিক পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার মহকুমা হাসপাতালের আর অনিন্দ্য পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরের মহকুমা হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদেরকে পাঠানো হয়েছে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।
বৃহস্পতিবার দিনভর নন্দীগ্রামে একাধিক কর্মসূচি ছিল অভিষেকের। কয়েক মাস আগেই ‘এক ডাকে অভিষেক’-এর ফোন নম্বরে নন্দীগ্রামে ‘সেবাশ্রয়’ চালুর বিষয়ে অনুরোধের ফোন পেয়েছিল ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর। তার পরই জানা যায়, ডায়মন্ড হারবারের মতো নন্দীগ্রামেও ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্প হবে। অভিষেক জানিয়েছিলেন ১৫ জানুয়ারি তিনি যাবেন নন্দীগ্রামে। সেই মতো বৃহস্পতিবার নন্দীগ্রামের দুই ব্লকের ‘মডেল ক্যাম্প’ ঘুরে দেখেন তিনি। তার মধ্যেই নন্দীগ্রামের কয়েক জন বাসিন্দা অভিষেকের কাছে ফিজিওথেরাপিস্টের অভাবে কথা জানান। সেই সমস্যার সমাধান করল স্বাস্থ্য দফতর।
অন্য দিকে, বাঁকুড়ার ‘রণ সংকল্প’ সভা থেকে পাথর খাদান নিয়েও বড় ঘোষণা করেছিলেন অভিষেক। আশ্বাস দেন পাথর খাদানের শ্রমিকদেরও। অভিষেক জানান, কিছু আইনি জটিলতার কারণে এই এলাকার সব পাথর খাদান পুরোদমে চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে সবগুলি খাদান পুরোদমে চালু হয়ে গেলে কমপক্ষে ২৫ হাজার লোক কাজের সুযোগ পাবেন। তৃণমূল সাংসদ এ-ও বলেন, “আমি গত দু’মাস ধরে এর উপর কাজ করেছি। আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ৩১ মার্চের আগে সব কাজ চালু করে ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।’’ তার ওই ঘোষণার দিন কয়েক পরেই বাঁকুড়ার ১৭টি পাথর খাদান নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করল সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইনে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ১১ ফেব্রুয়ারি। তার পরে দু’সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খাদানের কাজ শুরু হবে।