গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নিপায় আক্রান্ত হয়ে বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি দুই রোগী চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তবে মহিলা নার্স এখনও ভেন্টিলেশনে। তুলনামূলক ভাবে পুরুষ নার্সের শারীরিক পরিস্থিতি ভাল। দু’জনেই পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। নতুন কোনও নিপা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে সাবধানতার কারণে বারাসতে সেরোসার্ভে শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ওই প্রক্রিয়ায় বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা শুরু হবে।
এরই মধ্যে অতিমারি রুখতে আগাম প্রস্তুতির লক্ষ্যে চিকিৎসক-শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে ‘সেনসিটাইজ়েশন সেমিনার’ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর পরিচালিত ‘ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ এন্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’। ভাইরাসবিদ্যা (ভাইরোলজি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার বলেন, ‘‘বাদুড় যেহেতু নিপা ছাড়াও আরও বহু মারণক্ষম ভাইরাস বহন করে, ভাইরাস স্পিলওভারের ঘটনা আরও ঘটতেই পারে এবং আমাদের সে ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।’’
সিদ্ধার্থের মতে, দ্রুত যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এমনকি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিকাঠামোগত ভাবে তৈরি থাকতে হবে। সজাগ থাকতে হবে। নিপা আক্রান্তের চিকিৎসার বিস্তারিত আলোচনা করেন স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের শিক্ষক- চিকিৎসক সমরেন্দ্রনাথ হালদার। প্রসঙ্গত, কীসের সম্পর্শে এসে ওই দুই নার্স নিপা ভাইরাস সংক্রমিত হলেন, তা জানতে ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ শুরু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি করা হয়েছে দুই আক্রান্তের লাইন লিস্ট। নিপা ভাইরাসে সংক্রমিত দু’জনেরই ক্লিনিক্যাল ও বায়োকেমিক্যাল সূচকগুলিতে ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর। অন্য দিকে, ব্রুসেলাতে আক্রান্ত বারভূমের এক মহিলা কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গিয়েছেন। ৪৫ বছরে ওই মহিলা প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরের কর্মী বলে সরকারি সূত্রের খবর।