(বাঁ দিকে) শাকির আলি। অপরূপা পোদ্দার (ডান দিকে)।
তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলিকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাকিরের স্ত্রী অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে। স্বামীর গ্রেফতারির অনতিবিলম্বে স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হল মামলা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হুগলির আরামবাগের দু’বারের তৃণমূল সাংসদ অপরূপার বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের হয়েছে শ্রীরামপুর থানায়। প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং তাঁদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বস্তুত, শাকিরের গ্রেফতারির পর এনআইএ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন তাঁকে গাড়িতে উঠিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাস্তায় এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তর্কে জড়ান অপরূপা। ওই পুলিশকর্মী প্রাক্তন সাংসদকে কিছু বলছিলেন। কিন্তু তাঁর হাত সরিয়ে দিয়ে অপরূপা বলেন, ‘‘আই ডোন্ট নিড পুলিশ প্রোটেকশন। আমার দরকার নেই। পুলিশ প্রোটেকশন চাই না।’’ তার পর আর খানিক ক্ষণ বাদানুবাদ শেষে এগিয়ে যান তিনি।
শুধু ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে, না কি মঙ্গলবার প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা এনআইএ অভিযানের সময় অন্য কোনও ঘটনার প্রেক্ষিতে অপরূপার বিরুদ্ধে এ হেন অভিযোগ উঠেছে, তা স্পষ্ট নয়। এ নিয়ে অপরূপার কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রাক্তন সাংসদ অপরূপার স্বামী রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। তিন বছর আগে রামনবমীতে অশান্তি পাকানোর অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল রিষড়ার রামনবমীর মিছিলে অশান্তি হয়। মারামারি-গন্ডগোলে বেশ কয়েক জন আহত হন। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে দিন রিষড়ার বাঙুর পার্ক থেকে রামনবমীর মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষেরা। পুলিশ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় জওয়ানেরা দিলীপ ঘোষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা ছিল বেশ কয়েক দিন। পরিস্থিতি এমন হয় যে ৩ এপ্রিল রাজ্যপাল রিষড়ায় গিয়েছিলেন।
ঘটনাক্রমে রামনবমীর অশান্তি সংক্রান্ত মামলা পুলিশের হাত থেকে যায় এনআইএর হাতে যায়। তিন বছর পর মঙ্গলবার ওই মামলাতেই তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে তারা।
পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি অপরূপার।— নিজস্ব চিত্র।
স্বামীর গ্রেফতারি নিয়ে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে শোনা যায়নি অপরূপাকে। তবে বেশ কয়েক বার বাড়ির সামনে শক্ত হাতে ভিড় সামলাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। আবার ক্ষুব্ধ অনুগামীদের বুঝিয়েসুঝিয়ে শান্তও করতেও দেখা গিয়েছে। বাবার গ্রেফতারি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া দিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন পুত্র। পাছে বিতর্কিত কোনও মন্তব্য করে সে, তাই তাঁর মুখে হাত চাপা দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে ডিঙিয়ে ঘরে নিয়ে চলে গিয়েছেন অপরূপা। শুধু বলেছিলেন, ‘‘ভগবান এবং বিচারব্যবস্থার উপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে।’’
তার পরে অবশ্য নিজে মেজাজ হারিয়েছেন। প্রকাশ্যে এক মহিলা পুলিশ আধিকারিককে তোপ দেগেছেন তিনি। বুধবারই অপরূপাকে থানায় যেতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।