—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
হুগলির হিন্দমোটর কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই নাবালকের সঙ্গেই ‘নির্যাতিতা’ বন্ধ হওয়া কারখানায় ‘ঘুরতে গিয়েছিল।’ আগেই ধর্ষণে মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ‘নির্যাতিতা’র স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। বছর ষোলোর এক নাবালিকা তার এক বন্ধুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিন্দমোটর কারখানার ভিতরে ঢুকেছিল। অভিযোগ, সেখানে দুই সঙ্গীকে নিয়ে উপস্থিত হন ‘তৃণমূল যুবনেতা।’ নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তাঁরা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে ভয় দেখান। এর পর ব্ল্যাকমেল করে ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
মেয়েটি বাড়ি ফিরে সব কথা জানালে পরিবার উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ জানায়। তার ভিত্তিতে শুক্রবার মূল অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দু’জন ছিলেন বলে খবর। তাঁদের এখনও খোঁজ মেলেনি। অন্য দিকে, ধর্ষণের অভিযোগের তদন্তে নেমে যে বন্ধুর সঙ্গে নাবালিকা হিন্দমোটর কারখানায় গিয়েছিল, তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পকসো ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। শনিবারই ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হবে।
ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতর চলছে। শুক্রবার উত্তরপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে সিপিএম। আগামী ১৪ জানুয়ারি বামেদের পক্ষ থেকে উত্তরপাড়া বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, ধর্ষণের অভিযোগে ধৃত যুবক এর আগেও একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত। ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানো, এলাকায় দাদাগিরি থেকে অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িত। পাশাপাশি, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকেন তিনি। ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তারা জানিয়েছে, আইন আইনের পথে চলবে।
শনিবার চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার অমিত পি জাভালগি উত্তরপাড়া থানায় যান।তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলে থানা থেকে বেরিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘নাবালিকার বাবা অভিযোগ করেছেন। যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের একজন নাবালক। তাকে জুভেনাইল কোর্টে পেশ করা হবে।’’ তিনি আরও জানান, নাবালিকার স্বাস্থ্যপরীক্ষার রিপোর্ট তাঁরা পেয়েছেন। নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের যিনি সিভিক ভলান্টিয়ার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন, জানা গিয়েছে তা ভুয়ো।