Howrah Old Woman Murder Case

একাকী বৃদ্ধার বাড়ি দখল করে মদের আসর, প্রতিবাদ করায় সাঁড়াশি মুখে ঢুকিয়ে খুন! হাওড়াকাণ্ডে ধৃত ‘হোতা’

গত শুক্রবার নিজের ঘর থেকে বছর ৬৫-র বৃদ্ধার পচাগলা এবং বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ, মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ২১:০৯
Howrah Old Woman Murder Case

হাওড়ায় বৃদ্ধা খুনে গ্রেফতার এক। —নিজস্ব ছবি।

স্বামীর মৃত্যুর পর বাড়িতে একা থাকতেন বৃদ্ধা। সেই সুযোগে তাঁর ঘরে বসে মদ্যপানের আসর বসাতেন কয়েক জন। দিনের পর দিন ওই উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন ৬৫ বছরের বিধবা। রাগে তাঁকে খুনই করে ফেলেন কয়েক জন। হাওড়ার জগৎবল্লভপুরে বাড়ি থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধারের পর এমনই তথ্য পেল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্তকে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, জগৎবল্লভপুরে খুনে জড়িত মূল অভিযুক্তের নাম শানু মান্না। বয়স ৩০ বছর। স্থানীয়দের দেওয়া বিভিন্ন তথ্য এবং নিজেদের সূত্র কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে।

গত শুক্রবার নিজের ঘর থেকে বছর ৬৫-র বৃদ্ধার পচাগলা এবং বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ, মুখে সাঁড়াশি ঢুকিয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। খুনের পর বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়েরা জানান, মৃতার স্বামী মারা গিয়েছেন। ছেলে কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন এবং মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। জগৎবল্লভপুরে বাড়িতে একাই থাকতেন বৃদ্ধা। কিন্তু দিন চারেক পরিবারের লোকজন ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। শেষমেশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। শুক্রবার স্থানীয়েরা এসে দেখেন, বাড়ির বাইরে থেকে তিনটি দরজাতেই তালা দেওয়া। বাড়ির ভিতর তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হয় তাঁদের। কয়েক জন জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, মেঝেতে বৃদ্ধার বিবস্ত্র দেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বৃদ্ধার মেয়ের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

পুলিশের দাবি, ক্রমাগত জেরায় ধৃত খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন ছিলেন। তাঁদের খোঁজ চলছে। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, বৃদ্ধার বাড়ি দখল করে কয়েক জন সেখানে মদের আসর বসাতেন অভিযুক্তেরা। খুনের দিনও মদ্যপানের আসর বসেছিল সেখানে। প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধাকে খুন করা হয়। রবিবার দুপুরে ধৃত শানুকে আদালতে হাজির করানো হলে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন