মিমের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যমণি হুমায়ুন কবীর। —নিজস্ব ছবি।
কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বার মুর্শিদাবাদে নিজের বাড়িতে মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কির সঙ্গে বৈঠক করলেন হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের ওই নেতার সঙ্গে জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র প্রধানের জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এ-ও জানা যাচ্ছে, শনিবার রেজিনগরে হুমায়ুনের জোটের সভায় উপস্থিত থাকবেন তিনি।
হুমায়ুন-ইমরান সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে জেইউপি মুখপাত্র কামাল হোসেন বলেন, ‘‘আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নির্দেশে ইমরান আমাদের সভায় উপস্থিত থাকবেন। আরও অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’’
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল এবং বিজেপির বিরুদ্ধে জোট তৈরির চেষ্টায় রয়েছেন হুমায়ুন। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের মরাদিঘি এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন মাঠে ‘মেগা সমাবেশের’ ডাক দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুনের দাবি, ‘‘আগামিকাল এই সভায় অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের ভিড় হবে।’’ তাঁর ঘোষণা, “আগামিকালের এই সমাবেশ থেকেই রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার যাত্রা শুরু হবে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আমরা কোন পথে লড়ব, তার রূপরেখা ও কর্মসূচি এই সভা থেকেই ঘোষণা করা হবে।”
রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ছে এই সমাবেশের আমন্ত্রিত তালিকা। হুমায়ুন নিজে জানিয়েছেন, সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন এসডিপিআই, মিম এবং আজাদ সঙ্ঘের মতো বিভিন্ন দলের রাজ্য নেতারা। তাছাড়া অ-বিজেপি এবং অ-তৃণমূল রাজনৈতিক শক্তিকে তাঁর মঞ্চে শামিল হওয়ার আহ্বান করেছেন তিনি।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম, আইএসএফ-এর সঙ্গে তিনি জোট করতে ইচ্ছুক হুমায়ুন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিমের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকির দলের সঙ্গে আলোচনার ভার সিপিএমের উপরেই ছেড়েছেন তিনি। তবে এই আলোচনা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ সিপিএম। সেলিম জোটের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তিনি জানান, হুমায়ুনের মন বুঝতে গিয়েছিলেন।
হুমায়ুন-সেলিমের বৈঠক প্রসঙ্গে শুক্রবার বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘গান্ধীজি নন, স্বামী বিবেকানন্দ নন, এ বার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির পুজো করতে হবে বামেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মিটিং করার পর বোঝা যাচ্ছে সিপিএমের সময় কতটা খারাপ চলছে।’’