Elephants Death

হাতির সুরক্ষায় রেলের উদ্যোগ

হাতির পালের রেল লাইন পারাপার বা জঙ্গলের মধ্যে চলাচলের সম্ভাব্য পথের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শব্দতরঙ্গ নির্ভর বিশেষ সেন্সর বসাবে রেল। ওই সব সেন্সর যুক্ত থাকবে অপটিক্যাল ফাইবারের সঙ্গে।

ফিরোজ ইসলাম 
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:২৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রেললাইনে হাতির মৃত্যু ঠেকাতে উপস্থিতি নির্ণয়ের কৃত্রিম মেধা নির্ভর ব্যবস্থার উপরে আস্থা রাখছে রেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে ওই ব্যবস্থার তুলনামূলক উন্নত কার্যকারিতার কথা মাথায় রেখে সারা দেশে আটটি রেল অঞ্চলে ওই ব্যবস্থা চালুর উপরে তারা জোর দিচ্ছে।

হাতির পালের রেল লাইন পারাপার বা জঙ্গলের মধ্যে চলাচলের সম্ভাব্য পথের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে শব্দতরঙ্গ নির্ভর বিশেষ সেন্সর বসাবে রেল। ওই সব সেন্সর যুক্ত থাকবে অপটিক্যাল ফাইবারের সঙ্গে। চলাচলের পথে কোথাও হাতি এসে পড়লেই প্রতিফলিত শব্দতরঙ্গ তার অবস্থান এবং দূরত্ব হিসেব করে সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমকে বার্তা দেবে। ট্রেনের চালক এবং কাছাকাছি থাকা স্টেশন মাস্টারের কাছেও সে বার্তা পৌঁছবে। আগাম বার্তা পেলে চালক ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে পারবেন। তাতে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে হাতির মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হবে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের ১৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডর এখন ওই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। আগামী দিনে ওই রেলের ৪০৩. ৪২ কিমি, পূর্ব উপকূল রেলের ৩৬৮.৭ কিমি, দক্ষিণ রেলের ৫৫.৮৫ কিমি, উত্তর রেলে ৫২ কিমি, দক্ষিণ পূর্ব রেলে ৫৫ কিমি, উত্তর পূর্ব রেলে ৯৯.১৮ কিমি, পশ্চিম রেলে ১১৫ কিমি এবং পূর্ব মধ্য রেলে ২০.৩ কিমি রেলপথকে ওই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে রেল। বন এবং পরিবেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ ভাবে ওই পরিকল্পনা রূপায়ণ করা হবে। রেলের বিভিন্ন জ়োনগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে উঠবে।

২০১৯ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে সারা দেশে হাতি এবং ট্রেনের ৮১টি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও হাতির চলাচলের জায়গা সম্পর্কে ট্রেনের চালক এবং গার্ডদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সাইনবোর্ড বসাবে রেল। রেললাইনের কাছাকাছি থাকা জঙ্গল, ঝোপঝাড় কিংবা হাতির খাবার থাকলে তা সরানোর ব্যবস্থাও করবে রেল। হাতির নিয়মিত চলাচলের পরিসরে প্রয়োজন অনুযায়ী আন্ডারপাস এবং র‍্যাম্প তৈরি করা হবে বলে রেল সূত্রের খবর। এ ছাড়াও হাতির পালের গতিবিধির উপরে নজর রাখার জন্য প্রশিক্ষিত রক্ষী রাখার কথাও ভেবেছে রেল। ব্যস্ত রেলপথের কিছু জায়গায় মৌমাছির ডানা ঝাপটানোর শব্দ উৎপাদনের যন্ত্র বসাবে রেল। ওই শব্দ হাতি এড়িয়ে চলে। এ ছাড়াও রাতের বেলা অথবা তীব্র কুয়াশার মধ্যে হাতির উপস্থিতি যাচাই করতে রেল থার্মাল ইমেজ ক্যামেরা বসাবে বলেও সম্প্রতি জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। জঙ্গলের মধ্যে যেখানে সম্ভব সেখানে সৌর বিদ্যুতের আলোও বসাবেরেল। যাতে রাতের দৃশ্যমানতা উন্নত করা যায়।

আরও পড়ুন