Pawan Kumar Ruia arrested

শিল্পপতি পবন রুইয়া গ্রেফতার! ৬০০ কোটির সাইবার প্রতারণা মামলায় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের, জেরা চলছিল আগেই

গত নভেম্বরে সাইবার অপরাধ বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করেছিল। তাতে দাবি করা হয়, পবন এবং তাঁর পরিবারের অনেকের নামে বহু ভুয়ো সংস্থা (শেল কোম্পানি) রয়েছে। তাদের অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা জমা রাখা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫১
Industrialist Pawan Kumar Ruia arrested in cybercrime case

গ্রেফতার শিল্পপতি পবন রুইয়া। —ফাইল চিত্র।

জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি অভিযান হয়েছিল আগেই। এ বার ৬০০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা মামলায় শিল্পপতি পবন রুইয়াকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা। মঙ্গলবার নিউ টাউনের একটি হোটেলের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২৪ সালে বিধাননগরের ইকো পার্ক থানায় জনৈক স্বপনকুমার মণ্ডলের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতেই এই গ্রেফতারি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisement

অভিযোগ, দেশ জুড়ে বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণার টাকা ঢুকেছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পপতি পবন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। অভিযোগের তদন্তে নেমে প্রাথমিক ভাবে ৩১৫ কোটি টাকার হদিস পান সাইবার বিশেষজ্ঞেরা। তার পরেই গত নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পবনদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। তাতে দাবি করা হয়, পবন এবং তাঁর পরিবারের অনেকের নামে বহু ভুয়ো সংস্থা (শেল কোম্পানি) রয়েছে। সেই সমস্ত সংস্থার অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা জমা রাখা হয়েছে। তদন্তকারীরা পবনের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিলেন সে সময়।

পবন ছাড়াও এই মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর পুত্র রাঘব এবং কন্যা পল্লবীর। পবনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সক্রিয় হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগ। কিন্তু আগাম জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পবনেরা। ডিসেম্বরে তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছিল উচ্চ আদালত। তবে বেঁধে দিয়েছিল শর্ত। জেলা আদালতে তাঁদের পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। ২০২৪ সালে স্বপনের দায়ের করা অভিযোগের তদন্তে নামার পরে সাইবার সেলের কাছে ১৯০০-এর বেশি ভুক্তভোগী এনসিআরপি-র মাধ্যমে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ জানিয়েছেন রুইয়া পরিবারের বিরুদ্ধে। মোট প্রতারণার অঙ্ক অন্তত ৬০০ কোটি বলে পুলিশের দাবি।

সাইবার প্রতারণার টাকা যে অ্যাকাউন্টগুলিতে রাখা হত, সেগুলি কলকাতা ১৭-র ৪৬ সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ-এ অবস্থিত রুইয়া সেন্টার থেকে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জেসপ কারখানা থেকে রেলওয়ে সরঞ্জাম চুরির মামলায় পবন রুইয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁর মালিকানাধীন জেসপ ও ডানলপ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি অধিগ্রহণের চেষ্টা করেছিল রাজ্য সরকার। বাম জমানায় ডানলপ কারখানার মালিকানা পেয়েছিলেন পবন।

Advertisement
আরও পড়ুন