সাঁপুইপাড়া মোড়ে ফুটপাত দখল করে বেআইনি নির্মাণ। — নিজস্ব চিত্র।
ফুটপাত দখল করে নির্মাণ! যা ঠেকাতে খোদ পুরসভার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক শুক্রবার আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের তরফে আপাতত নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মাসের ৬ তারিখ।
কলকাতা পুরসভার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়া মোড়ে ফুটপাত নতুন করে সারানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে একটি নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে রয়েছে পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটি। অথচ, স্থানীয় পুরপ্রতিনিধির মদতেই এই সব কাজ হচ্ছে। এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘ফুটপাতের উপরে নির্মাণ হচ্ছে। মানছি, এখন ফুটপাতে ছাড় রেখে কাজ হচ্ছে। কিন্তু দোকান চালুর পরে সামগ্রী তো বাইরে রাখা হবে। জিনিসপত্র কিনতে ভিড় বাড়বে। মানুষ তখন বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটবেন। দুর্ঘটনা বাড়বে।’’ এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ‘‘যে ভাবে ফুটপাতে নির্মাণ চলছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে জায়গাটি শ্যামবাজার-হাতিবাগানের চেহারা নেবে।’’
শহরের অনেক ফুটপাতই আর হাঁটাচলার যোগ্য নেই। বিভিন্ন ফুটপাতের ভগ্নদশা চোখে পড়ার মতো। আবার ফুটপাত সংস্কার হলে সেখানে স্থায়ী নির্মাণ হচ্ছে! ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়া মোড়ে যে জায়গায় নির্মাণ হচ্ছে, তার লাগোয়া একটি জমি রয়েছে পুরসভার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ফুটপাত দখল করে এমন ভাবে নির্মাণ হচ্ছে যে, আমার জমিতে ঢুকতে অসুবিধা হবে।’’
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে ওই ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি অরিজিৎ দাস ঠাকুর বলেন, ‘‘অতীতে এই এলাকায় রাস্তা দখল করে বাজার বসত। রাস্তা নোংরা হত। গাড়ি চলাচলে এবং মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হত। বিধায়ক-সাংসদ তহবিলের টাকায় ফুটপাত সংস্কার হয়েছে। পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটির বেঁধে দেওয়া নিয়ম মেনে দোকান করে দেওয়া হচ্ছে, যাতে পথচারীরা চলাফেরা করতে পারেন।’’
তবে কি ফুটপাত দখল করে এ ভাবে দোকান করা বৈধ? পুরপ্রতিনিধির দাবি, ‘‘এটি অবৈধ দখল নয়। ফুটপাতের সৌন্দর্যায়ন করার পাশাপাশি মানুষ যাতে কেনাকাটা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ পুরসভার টাউন ভেন্ডিং কমিটির সদস্য দেবাশিস দাস বলেন, ‘‘১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুইপাড়া মোড়ে ফুটপাত দখল করে এই নির্মাণ অবৈধ। টাউন ভেন্ডিং কমিটির থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়নি।’’ এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (হকার পুনর্বাসন কমিটি) দেবাশিস কুমারকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তা বেজে গিয়েছে। মেসেজ বা ওয়টস্যাপেও উত্তর মেলেনি।