—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
২০২১ সালে ভোটের পর কাঁকুড়গাছিতে নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারের অভিযোগ, তাঁর নিরাপত্তায় মোতায়েন এক পুলিশকর্মী তাঁকে বন্দুক নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান ওই পুলিশকর্মীকে অপর এক পুলিশকর্মী আটকাতে গেলে তাঁর উপরও চড়াও হন। বুধবার রাতে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাচক্রে, অভিজিৎ খুনের মামলায় যে অভিযুক্তদের নামে সিবিআই চার্জশিট পেশ করেছে, তাঁদের মধ্যে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশকর্মীর নামও রয়েছে! প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। ওই সময়েই ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হন পূর্ব কলকাতার কাঁকুড়গাছির অভিজিৎ। পরিবারের অভিযোগ, ফল প্রকাশের পরেই গলায় তার পেঁচিয়ে ও পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় অভিজিৎকে। প্রথমে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ ওই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছিল। পরে হাই কোর্টের নির্দেশে পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
ওই মামলায় পুলিশ প্রথমে ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল। পরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট জমা করে সিবিআই। তাতে মোট ২০ জন অভিযুক্তের নাম ছিল, যাদের মধ্যে ১৫ জনের নাম ছিল পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটেও। ২০২৫ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতে অভিযুক্তের তালিকায় নাম রয়েছে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (বস্তি) স্বপন সমাদ্দার এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষের। কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত এসি (তৎকালীন ওসি, নারকেলডাঙা থানা) শুভজিৎ সেন, তৎকালীন এসআই রত্না সরকার এবং হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথ ও সুজাতা দের নাম রয়েছে চার্জশিটে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা হাই কোর্ট ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’য় মৃত বিজেপি কর্মীর দাদা বিশ্বজিৎ এবং তাঁর মাকে ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।