(বাঁ দিকে) শাকির আলি। অপরূপা পোদ্দার (ডান দিকে)। —ফাইল এবং নিজস্ব চিত্র।
শর্তসাপেক্ষে এনআইএ মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন হুগলির রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলি। শুক্রবার ১০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন শাকির। আদালতের নির্দেশ, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তৃণমূল কাউন্সিলরকে। কোনও প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরে যেতে হলে তাঁকে আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে তাঁকে।
অন্য দিকে, শুক্রবারই শাকিরের স্ত্রী, প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার অন্য একটি মামলায় শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে ঘিরে জটলা তৈরি হয় শ্রীরামপুর থানা চত্বরে।
গত মঙ্গলবার তিন বছর পুরনো রামনবমীতে অশান্তি সংক্রান্ত মামলায় বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় রিষড়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাকিরকে। ২০২৩ সালের ২ এপ্রিল রিষড়ার রামনবমীর মিছিলে অশান্তি হয়েছিল। মারামারি-গন্ডগোলে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছিলেন। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। তিন বছর পর ওই মামলায় শাকিরের গ্রেফতারিকে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বললেও অপরূপা তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং বাবার গ্রেফতারি বলতে যাওয়া তরুণ পুত্রের মুখে হাত চাপা দিয়েছিলেন তৃণমূলের দু’বারের সাংসদ অপরূপা। তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভগবান আর বিচারব্যবস্থার উপর পূর্ণ ভরসা রয়েছে।’’
ঘটনাক্রমে অপরূপার বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে শ্রীরামপুর থানায়। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর গ্রেফতারির সময় তিনি পুলিশের সঙ্গে অসহযোগিতা এবং খারাপ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। অপরূপার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ১১টা ৫০ মিনিটে প্রাক্তন সাংসদ থানায় হাজিরা দেন। আইনজীবীর বেশে থানায় ঢুকেছিলেন। বিকেল ৪টে ১৫ পর্যন্ত চলে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ। থানা থেকে বেরোনোর সময়ই হঠাৎ সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন অপরূপা। সিআরপিএফ জওয়ানদের সাহায্যে টোটোয় ওঠেন তিনি। গন্তব্য, শ্রীরামপুর ওয়ালস্ হাসপাতাল।
সূত্রের খবর, হাসপাতালের মূল ফটকে পৌঁছেও টোটোটি না থেমে বটতলার দিক দিয়ে কাঁটাপোলের রাস্তা ধরে। সেখানেই ‘নাটকীয় মোড়’। দেখা যায়, টোটোটি রিষড়ার দিকে অপরূপার বাড়ির দিকে এগোচ্ছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমের কয়েক জন প্রতিনিধি ছিলেন। সকলকে এড়িয়ে বাড়িতে ঢুকে যান অপরূপা।
শাকিরের গ্রেফতারি নিয়ে বুধবার আদালতে এনআইএ জানিয়েছিল গত রাজ্য সরকারের আমলে সহযোগিতা পায়নি তারা। তাই তদন্ত এগোতে দেরি হয়েছে। এ-ও জানানো হয়, রামনবমীতে অশান্তির ঘটনায় ছ’টি এফআইআর হয়েছিল। সে দিন রামনবমীর মিছিলে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের উপর হামলা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। এনআইএ-র দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে শাকির আলি ‘মূল চক্রী’, তিনি উস্কানি দিয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বাড়ি থেকে ৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে জানায় এনআইএ। এনআইএ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছিল।
শুক্রবার রুদ্ধদ্বার কক্ষে শুনানির জন্য আবেদন করেছিলেন শাকিরের আইনজীবী। কলকাতায় এনআইএ আদালতে রামনবমী মামলার ‘ইন ক্যামেরা’ শুনানি হয়। আদালত সূত্রে খবর, সরকারি পক্ষ এবং অভিযুক্তের আইনজীবীদের কেউ যাতে বাইরে উপস্থিত না থাকেন, সেই মর্মে আবেদন করেছিলেন অপরূপার স্বামীর আইনজীবী। ওই আবেদনে মেনে নেন বিচারক।