কুণাল ঘোষের উপর ডিম-আক্রমণ। ছবি: সংগৃহীত।
এ বার কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হল কাঁচা ডিম! সেটাও আবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনেই।
সোমবার বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে বৈঠক সেরে বেরোচ্ছিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল। সেই সময়ে তিনি দেখেন, রাস্তায় তাঁর জন্য ডিম হাতে অপেক্ষা করছেন একজন। কুণাল তাঁকে দেখতে পান। কিছু বার্তালাভ হয় তাঁদের। পর ক্ষণেই কুণালের মাথায় ডিম ছুড়ে মারা হয়।
আক্রমণকারীদের মধ্যে একজন জানান, তাঁর নাম চন্দন। কুণালের অপেক্ষাতেই তিনি ছিলেন। ওই যুবক জানান, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ এবং বিক্ষোভের অংশ হিসাবে পচা ডিম ছুড়েছেন কুণালকে। তিনি কালীঘাটেরই বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন। ওই যুবক হিন্দিতে বলেন, ‘‘কুণাল ঘোষ কি কম অত্যাচার করেছেন? এঁরা পচা ডিম খাওয়ারই যোগ্য।’’
কুণাল জানিয়েছেন, তিনি মমতার বাড়িতে বৈঠকে ছিলেন। কয়েক জন প্রবীণ নেতার সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরোচ্ছিলেন। সেই সময়ে এই ঘটনা ঘটে। কুণাল ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘আমি যখন বেরোচ্ছি, ঠিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ছিলেন প্রশ্ন করবেন বলে। তাঁরা আমাকে দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। আমি দাঁড়াই। তখনই দু’টি ছেলে এগিয়ে আসে। তাদের পিছনে আরও কেউ কেউ ছিল। দু’জনের মধ্যে একজন ডিম নিয়ে আক্রমণ করে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার চোখ ক্যামেরার লেন্সের দিকে ছিল। সেই অবস্থায় একজন আমার দিকে ডিম ছুড়ছিল।’
এই ঘটনাকে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলতে একেবারেই রাজি নন কুণাল। তিনি বলেন, ‘‘এগুলো স্রেফ বাঁদরামি, অসভ্যতামি। কিসের ক্ষোভ! পরিকল্পনা করে বাঁদরামি করা হচ্ছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা থাকে। ছেলেগুলো ডিম ছুড়ল এবং তাদের চলে যেতে দেওয়া হল! পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল।’’ রাগত স্বরে কুণাল বলেন, ‘‘ওখান দিয়ে আবার যাব। একসময়ে দেড়শো পুলিশ দিয়ে সামলাতে হত কুণালকে। দু’-একটা কুকুর-বেড়াল কী করবে। ওই রাস্তা দিয়ে আবার যাব আমি।’’
খানিক ক্ষণ পর কুণাল যখন গাড়ি করে ওই রাস্তা দিয়ে বার হচ্ছেন, তখনও আক্রমণকারীদের কয়েক জন দাঁড়িয়ে। তাঁদের উদ্দেশে কুণাল বলেন, ‘‘বাকিগুলো অমলেট করে খেয়ে নিন।’’
ঘটনার বেশ খানিক পরে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল বিধায়ক লেখেন, ‘‘হামলা করে আমাকে থামানো যাবে না।’’