ED Raids I-PAC Office

কখন ইডি আসে, কী ভাবে চলে তল্লাশি? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে লাউডন স্ট্রিটে বয়ান ও ফুটেজ সংগ্রহ শুরু করল পুলিশ

লাউডন স্ট্রিট এবং সল্টলেকে ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে থানায় দু’টি পৃথক মামলা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২৮
আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে তৎপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

তৃণমূল ও রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযান নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরেও তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রেক্ষিতে শেক্সপিয়র সরণি থানা এবং সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় পৃথক ভাবে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পদক্ষেপ করছে। শুক্রবার প্রতীকের বাড়ি থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। শনিবার শুরু হয়েছে বয়ান সংগ্রহের কাজও। এই ঘটনার সময় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ কথা বলছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ভোরে ইডির দু’টি দল লাউডন স্ট্রিট এবং সল্টলেকে পৌঁছে গিয়েছিল। বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় শুরু হয়েছিল তল্লাশি অভিযান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশকে প্রতীকের বাড়ি বা আইপ্যাকের দফতরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। বেলা ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী নিজে লাউডন স্ট্রিটে যান এবং ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়ি থেকে নথিপত্র, ফাইল, ল্যাপটপ বার করে আনেন। দলের নির্বাচনী কৌশল চুরির অভিযোগ আনেন কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে। কাজে বাধা পেয়ে বৃহস্পতিবারই ইডির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ নথিভুক্ত করেছিল পুলিশ। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীও অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রতীকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বয়ানও সংগ্রহ করতে পারে পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এবং পরিচারিকার বয়ান নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবাসনের নিরাপত্তাকর্মী কারা ছিলেন, সে বিষয়েও জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। ইডি বা সিআরপিএফ-এর কারা এসেছিলেন, সেই তথ্যও জানতে চাওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইডি ঠিক কোন সময়ে লাউডন স্ট্রিটে এসেছিল, প্রতিনিধিদলে কত জন ছিলেন, কী ভাবে তল্লাশি চলেছে, সে বিষয়ে প্রতীকের বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রতীকের বাড়ি থেকে সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজই শেক্সপিয়র সরণি থানা সংগ্রহ করেছে। নেওয়া হয়েছে ডিভিআর। এর আগে সন্দেশখালিতে শাহজাহান শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে ইডি যখন মার খেয়েছিল, তখন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকদের থানায় তলব করেছিল পুলিশ। এ ক্ষেত্রেও তাঁদের ডাকা হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। তবে সন্দেশখালির ঘটনায় আলাদা করে থানায় অভিযোগ করেছিল ইডি। এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি।

পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে আসে ইডি। প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়। সকাল ৯টা নাগাদ খবর পেয়ে প্রাথমিক ভাবে থানার এক সার্জেন্ট ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, তাঁকে ধাক্কাও মারা হয়েছে। এর পর কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁকেও বাধা দেওয়া হয়। পরে যান পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছোন।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে ইডি। পাল্টা তৃণমূলও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুক্রবার এই জোড়া মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে। কিন্তু আদালতকক্ষে ভিড় এবং হট্টগোলের কারণে বিচারপতি এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মামলা মুলতুবি রাখা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন