— প্রতীকী চিত্র।
কলকাতায় বাতিস্তম্ভের আলো খুলে পড়ে মৃত্যু হল শিশুর। সোমবার সকালে হেস্টিংস চত্বরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সকালে সেখানে আচমকাই রাস্তার উপরে খুলে পড়ে একটি বাতিস্তম্ভের আলো। তার আঘাতে গুরুতর আহত হয় ছ’বছরের এক শিশু। পরে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হেস্টিংসে উড়ালপুলের তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত গুড়িয়া খাতুন নামে ছ’বছরের ওই শিশু। সেখানে উড়ালপুল লাগোয়া একটি ‘হাই মাস্ট’ বাতিস্তম্ভ রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই বাতিস্তম্ভ থেকেই একটি আলো খুলে নীচে পড়ে যায়। তার ফলেই মৃত্যু হয় গুড়িয়ার।
এই বাতিস্তম্ভ থেকেই খুলে পড়ে আলো। —নিজস্ব চিত্র।
প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সকাল ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে। অন্য দিনের মতো সোমবার সকালেও বাতিস্তম্ভের নীচে খেলছিল গুড়িয়া। তখনই বাতিস্তম্ভ থেকে আলো এসে পড়ে তার গায়ে। কী ভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। তবে এর জন্য রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করছে মৃত শিশুর পরিবার।
বাতিস্তম্ভের নীচের অংশ ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছে। —নিজস্ব চিত্র।
পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, বাতিস্তম্ভ থেকে আলো খুলে পড়ার পরে, ঘটনাস্থল থেকে একটিই ‘নাট’ পাওয়া গিয়েছে। ওই আলোগুলি বাতিস্তম্ভে লাগানোর জন্য সাধারণত চারটি ‘নাট’ থাকে। এখানে বাকি তিনটি ‘নাট’ লাগানো ছিল না বলে অভিযোগ তুলছে পরিবার। তাদের দাবি, সেই কারণে বাতিস্তম্ভ থেকে আলোটি খুলে নীচে পড়ে গিয়েছে। নিহত গুড়িয়ার বাবা পেশায় দিনমজুর। তিনি জানান, ভাগ্নের কাছ থেকে খবর পেয়ে তড়িঘড়ি তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। সেখানে তখন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল শিশুকন্যা। মাথায় গুরুতর চোট ছিল। দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।