তারাতলায় ভেঙে পড়েছে নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো। ছবি: পিটিআই।
জগদ্দলের বাড়ি থেকে তারাতলায় কাজের জায়গাটা বেশ দূর হয়ে যাচ্ছিল। প্রথম যে দিন কাজে যাওয়ার কথা ছিল, সে দিন তাই আর যাননি। বুধবার প্রথম কাজে গিয়ে আর ফেরা হল না স্বপন মণ্ডলের। গুদামের ছাদ ভেঙে প্রায় ৪০ জন শ্রমিকের সঙ্গে আটকে পড়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ৫৬ বছরের স্বপনকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গত ১৫-২০ বছর ধরে ঢালাইয়ের কাজ করতেন স্বপন। যে দিন যেখানে কাজ পেতেন, সেখানে যেতেন। তারাতলায় ওই গুদামে ঢালাইয়ের কাজে নিয়োগ করেছিলেন এক ঠিকাদার। স্বপনের আত্মীয় সুখদেও পারুই বলেন, “তারাতলার গুদাম বাড়ি থেকে দূরে হয়ে যাচ্ছিল বলে প্রথম দিন কাজেও যাননি। কিন্তু পরের দিন বুধবার গেলেন, গিয়েই এই অবস্থা।”
রোজ নিজের বাইকে চেপে স্টেশনে যেতেন স্বপন। সেখানে রাখা থাকত বাইক। তার পরে ট্রেনে চেপে কাজে যেতেন প্রৌঢ়। বুধবার তাঁকে স্টেশনে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন মেয়ে পিউ। তাঁর কথায়, “বাবা বলল, স্টেশনে দিয়ে আসতে। সকালে আমিই বাবাকে তুলে দিয়ে এলাম ট্রেনে। সেটাই শেষ দেখা।’’
তারাতলার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে দেখেছিলেন পিউ। কিন্তু সেখানেই যে স্বপন কাজে গিয়েছিলেন, তা একবারও তাঁর বা পরিবারের অন্য কারও মাথায় আসেনি। বুধবার সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও স্বপনের ফোন আসেনি। তখনই মনটা কু ডেকেছিল পিউয়ের। তাঁর কথায়, ‘‘কাজ শেষ হয়ে গেলে বাবা একবার ফোন করত, সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে দেখে বাবাকে ফোন করলাম। কিন্তু ফোন সুইচড অফ ছিল।”
অগত্যা পিউ বুধবার রাতে ফোন করেন ঠিকাদারকে। প্রথমে ফোন ধরেননি ঠিকাদার। তার পরে তাঁকে পাঁচ-ছ’ বার ফোন করার পর পিউরা জানতে পারেন, তারাতলার ওই গুদামেই চাপা পড়ে রয়েছেন স্বপন। তিনি নিজেও আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন এসএসকেএমে। শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন পিউ।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একবার পিউরা গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে, একবার তারাতলা থানায়, তার পরে আবার এসএসকেএম চত্বরে। তিন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ক্রমাগত স্বপনের খোঁজ চালিয়ে গিয়েছিল পরিবার। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বপনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে এসএসকেএমে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, স্বপনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে প্রশাসনিক কাজ সারছেন পিউ। বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন বাবার নিথর দেহ।