Taratala Godown Roof Collapse

ফিরহাদকে গ্রেফতার করে জেরা করা হোক!’ তারাতলার ঘটনায় শুভেন্দুর আক্রমণের পরে কুণালেরও নিশানায় কলকাতার প্রাক্তন মেয়র

তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনকে। তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করেছে পাঁচ জনকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ২২:০২
ফিরহাদ হাকিম (বাঁ দিকে), কুণাল ঘোষ (ডান দিকে)

ফিরহাদ হাকিম (বাঁ দিকে), কুণাল ঘোষ (ডান দিকে) — ফাইল চিত্র।

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনায় কলকতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইলে ববির সই দেখান শুভেন্দু। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতারের দাবি তুললেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। প্রসঙ্গত, কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ববি আপাতত বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন।

Advertisement

বিধানসভার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল বলেন, ‘‘এই তদন্তে যাদের নাম মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা জড়িত বলে অভিযোগ থাকে বা কোনও ভাবে দায় থাকলে তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত৷ মুখ্যমন্ত্রী যখন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন, তাহলে তাঁর বক্তব্যকেই আমরা মান্যতা দেব৷ শুধুমাত্র সামনে থাকা কয়েক জন গ্রেফতার হল আর বড় মাথা যাঁরা তাঁদের নাম শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিধানসভায় ব্যবহার করা হল, সেটা যেন না হয়৷ প্রাক্তন মেয়রের যদি দায় থাকে, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করে জেরা করা হোক৷’’

শুধু ববি নন। মেয়র থাকাকালীন তাঁর ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও বিধানসভার বক্তৃতায় অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। যদিও তাঁর পুরো নাম উচ্চারণ করেননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভায় কালী না-বললে কোনও প্ল্যান (পাশ) হয় না।’’ শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, কালীচরণকে নিয়োগ করেছিল ক্যামাক স্ট্রিট। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর। যদিও গত বছর অভিষেকের অফিসের এক কর্মচারীই কালীচরণের বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলাই কালীচরণকে আটক করেছে পুলিশ।

তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৯ জনকে। তাঁরা এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করেছে পাঁচ জনকে। তাঁদের মধ্যে চার জনের নামই এফআইআর-এ ছিল। জানা গিয়েছে, গুদামটির জমি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজ় নিয়েছিল বেহরা ব্রাদার্স নামের একটি সংস্থা। তার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও গ্রেফতার হয়েছেন। সাধারণত, লিজ় নেওয়া জমিতে কোনও নির্মাণকাজের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। সূত্রের খবর, এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নির্মাণে আপত্তি করেননি। ঘটনাচক্রে, কলকাতা বন্দর আবার ফিরহাদের বিধানসভা এলাকা। নির্মাণে সিন্ডিকেটরাজের অভিযোগ তুলেছেন কেউ কেউ।

Advertisement
আরও পড়ুন