Blue Line kolkata metro

ব্লু লাইনে ভূগর্ভস্থ স্টেশনে ‘টানেল ভেন্টিলেশন’ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের কাজ শুরু কলকাতা মেট্রোয়

৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে এই কাজ সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৯
Modernization of the tunnel ventilation and environmental control system has begun at Blue Line kolkata metro stations

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মিশ্র-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিক। —নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনের ভূগর্ভস্থ স্টেশনগুলিতে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষাকে আরও উন্নত এবং সুদৃঢ় করতে আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হল। মঙ্গলবার নোয়াপাড়া কারশেডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (টিভিএস) এবং এনভায়রনমেন্ট কন্ট্রোল সিস্টেম (ইসিএস) উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু মিশ্র-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিক।

Advertisement

মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ব্লু লাইনের যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তায় এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। প্রায় ৫৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। এটি একটি আধুনিক, শক্তপোক্ত ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা, যা ব্লু লাইনের ১৫টি ভূগর্ভস্থ স্টেশনের ‘কুলিং সিস্টেম’কে অন্তর্ভুক্ত করবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল জল সংরক্ষণ। বর্তমানে ব্যবহৃত ‘ওয়াটার কুলড চিলারে’র বদলে চালু করা হবে ‘এয়ার কুলড চিলার’। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৮ কোটি লিটার ভূগর্ভস্থ জল সাশ্রয় হবে। এত দিন স্টেশনগুলিকে শীতল রাখতে ‘ওয়াটার কুলড চিলার’ চালানোর জন্য বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার করা হত। নতুন ব্যবস্থায় মেট্রো স্টেশনগুলির বাইরে পরিচিত ‘কুলিং টাওয়ারে’র দৃশ্যও বদলে যাবে। জল সাশ্রয়ের পাশাপাশি, এটি পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ জলস্তর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি করেছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও টিভিএসে বড়সড় উন্নয়ন করা হচ্ছে। ৪১ বছর পুরনো যে ব্যবস্থাটি তৈরি হয়েছিল, তা মেট্রো রেলের নন-এসি রেকের জন্য। বর্তমানে কলকাতা মেট্রো সম্পূর্ণ ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেক চালু করায় অত্যাধুনিক টিভিএস ব্যবস্থায় রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উন্নতমানের ‘স্মোক এক্সট্রাকশন সিস্টেম’-ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে টানেলের মাঝামাঝি ১৪টি জায়গায় ১১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যান’ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে, যার ফলে বছরে প্রায় ৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, সঙ্গে খরচ হয় প্রায় ২১ কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পে এই ফ্যানগুলির পরিবর্তে উন্নতমানের ‘অ্যাক্সিয়াল ফ্যান’ বসানো হবে, যা আগুন বা ধোঁয়ার উপস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালু হবে এবং ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে দু’ঘণ্টা কাজ করতে সক্ষম হবে। এই কাজ বাস্তবায়ন করবে একটি জাপানি সংস্থার ভারতীয় শাখা। যারা সিঙ্গাপুর মেট্রোর শতাধিক ভূগর্ভস্থ স্টেশনে ইতিমধ্যেই সফলভাবে এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে বছরে প্রায় ২১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন কমবে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
আরও পড়ুন