West Bengal Post-Poll Violence

বিজেপি কর্মী খুনে তৃণমূল নেতা-সহ ধৃত চার

গত মঙ্গলবার মধুর উপরে এক দল তৃণমূল সমর্থক হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূল নেতা কমলের মদতেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৮:৫৬

— প্রতীকী চিত্র।

নিউ টাউনের বালিগড়ি এলাকায় বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে (৪৫) খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল-সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

গত মঙ্গলবার মধুর উপরে এক দল তৃণমূল সমর্থক হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূল নেতা কমলের মদতেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। মঙ্গলবার এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার প্রতিবাদে অভিযুক্ত কমলের বাড়ির সামনে বিজেপির লোকজন জড়ো হলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিজেপি সমর্থকেরা দাবি করতে থাকেন, কমলকে গ্রেফতার করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিজেপি সমর্থকদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি চালায়, তাতে নিহতের পরিবারের সদস্যদের গায়েও আঘাত লেগেছে। তদন্তে নেমে তিন জনকে আটক করে পুলিশ। সেই সঙ্গে কমলকে গ্রেফতার করা হয়। মধুর দেহের ময়না তদন্ত করানো হয়েছে। সেটির রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হবে পুলিশ।

বিধাননগর থেকে শুরু করে কেষ্টপুর, রাজারহাট এবং নিউ টাউনে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, একাধিক পুরপ্রতিনিধির বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন, এমন কোনও ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে দলের রং না দেখে কঠোর পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করার কাজ শুরু হয়েছে।

বিধাননগর পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড ও দত্তাবাদের একাধিক জায়গায় বাড়ি ভাঙচুর, মারধর, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। সেই সব ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ভোটের ফল সামনে আসার পরেই দত্তাবাদ এলাকায় শতাধিক লোক জড়ো হয়। অভিযোগ, তারা স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের গালি ও হুমকি দিতে থাকে। অভিযোগ, পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও পরে একাধিক বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। মারধর করা হয় অনেককে।

বিধাননগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি ও তাঁর স্বামী এলাকাছাড়া বলে দাবি তৃণমূলের। তাদের দাবি, যারা বিজেপির পতাকা নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে, তাদের তদন্তের আওতায় আনা হোক। এক তৃণমূল নেতার অভিযোগ, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে এক দল দুষ্কৃতী এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। পদক্ষেপ করুক প্রশাসন।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, সব ঘটনা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ধরপাকড়ও করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন