এ বার আদালতের দ্বারস্থ মানস ভুঁইয়া। —ফাইল চিত্র।
এ বার গ্রেফতারি এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। বুধবার মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং বিধানসভার সাত বারের বিধায়ক মানস সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়েছেন। তার অনতিবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়। গত ১০ জুন সবং বিধানসভা এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা এক যুবক ওই অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর স্ত্রীকে তেমাথানি ইরিগেশন বাংলোতে সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। চাকরিটা হয়েছিল তৎকালীন মন্ত্রী মানসের মধ্যস্থতাতেই। তবে চাকরির বিনিময়ে শেখ আবু কালান বক্স এবং ভোলানাথ দে-কে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে। এর পর তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেন। গত মার্চে বেতনও পেয়েছিলেন। কিন্তু দু’মাসের মধ্যে সেই চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি অর্থ খুইয়েছেন, স্ত্রী চাকরি হারিয়েছেন— এই অভিযোগ এনে মানসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আবেদন করেছিলেন ওই যুবক। তার পরই প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। মানস অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এ বার আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
আদালত সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহে বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। তা ছাড়া মেদিনীপুর জেলা আদালতেও মানস আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। তার শুনানি রয়েছে আগামী ২৯ জুন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন প্রবীণ রাজনীতিক মানস। দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়েন তিনি।