Grand Hotel Kolkata

ধর্মতলায় গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কার করতে ধাপে ধাপে হকার সরাতে পদক্ষেপ, সংস্কারের কাজে পুরসভার নতুন রূপরেখা তৈরি

গত কয়েক বছর ধরে গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই প্রেক্ষিতে বছর দেড়েক আগে পুরসভা, পুলিশ এবং পুরসভায় টাউন ভেন্ডিং কমিটির যৌথ অভিযানে ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে হকারদের বসানোর ব্যবস্থা করা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৬
Step-by-step relocation of hawkers to facilitate renovation of Grand Hotel in Dharmatala; KMC drafts new roadmap for restoration work

ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে গ্র্যান্ড হোটেল সংস্কারের কাজ। —ফাইল চিত্র।

ধর্মতলায় ঐতিহ্যবাহী হোটেল সামনের ফুটপাত থেকে হকার সরানো নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার সমাধানসূত্র অবশেষে মিলেছে। হোটেল সংস্কারের কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, সেই দাবি জানিয়ে কর্তৃপক্ষ কলকাতা পুরসভার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রশাসন সূত্রে খবর, একসঙ্গে সব হকার সরানো হবে না, বরং তিন থেকে চার ধাপে সংস্কারের কাজ এগোবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশের হকারদের অস্থায়ী ভাবে সরানো হবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।

Advertisement

পুরসভার এক আধিকারিক জানান, “গোটা বছরের জন্য হকার সরানো সম্ভব নয়। হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, যতটুকু অংশে সংস্কার হবে, কেবল সেই অংশের হকারদের দেড় থেকে দু’মাসের জন্য সরাতে হবে। কাজ শেষ হলেই তাঁরা ফের বসতে পারবেন।” অর্থাৎ অনির্দিষ্ট কালের উচ্ছেদ নয়, বরং সময়সীমা বেঁধে ধাপে ধাপে অস্থায়ী পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কলকাতা পুরসভায় টাউন ভেন্ডিং কমিটি (টিভিসি)-র বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হকার পুনর্বাসন সংক্রান্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, টিভিসির কো-চেয়ারম্যান স্বপন সমাদ্দার-সহ পুরসভার আধিকারিক এবং বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা। হোটেল কর্তৃপক্ষও আলোচনায় অংশ নেন।

গত কয়েক বছর ধরে গ্র্যান্ড হোটেলের সামনের ফুটপাতে হকার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। হোটেল কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। সেই প্রেক্ষিতে বছর দেড়েক আগে পুরসভা, পুলিশ এবং টিভিসির যৌথ অভিযানে ফুটপাতের নির্দিষ্ট অংশ ছেড়ে হকারদের বসানোর ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রশাসনিক তৎপরতা শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বলে অভিযোগ।

হোটেল সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রথমে সমস্ত হকারকে সরিয়ে সংস্কারের পরিকল্পনা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু আদালতের জটিলতা এবং জীবিকার প্রশ্নে তার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এক থেকে দেড় বছর ধরে হকারদের সম্পূর্ণ সরিয়ে রাখা বাস্তবসম্মত নয় বলেই বৈঠকে মত উঠে আসে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাজের অগ্রগতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে অস্থায়ী ‌ভাবে সরানোর প্রক্রিয়া চালানো হবে। প্রশাসনের দাবি, এতে যেমন হোটেলের সংস্কার এগোবে, তেমনই হকারদের রুজিরুটিও সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন