—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। তবে বহু পুরসভাতেই বোর্ড রয়েছে তৃণমূলের হাতে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়কদের সমন্বয় করে পুর-পরিষেবা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তার পরেই ঘাটাল-সহ মহকুমার পাঁচ পুরসভাতেই নজরদারির জন্য কোথাও তিন কোথাও বা চার জনের কমিটি গড়ে দেন স্থানীয় বিধায়কেরা।
তবে ঘাটাল মহকুমা ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরে অন্য পুরসভায় ওই কমিটি গঠন হয়নি বলে খবর। ঘাটালেও ওই কমিটি নিয়ে গেরুয়া শিবিরে অন্দরে কোন্দল চরমে উঠেছে। রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ ছাড়া কী ভাবে ওই কমিটি গড়া হল, সদস্যদের বাছা হল কোন নিয়মে, দলের বৈঠকেও এমন প্রশ্ন উঠছে। বিজেপির ঘাটাল সাংগাঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস মানছেন, “রাজ্য নেতৃত্বের এমন কোনও নির্দেশ নেই। তৃণমূলের বোর্ড চলছে। তার দায় বিজেপি নেবে কেন? ওই কমিটি দলের অনুমতি ছাড়াই চলছে।”
বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে রাজ্যের অধিকাংশ পুরসভায় সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিজেপির স্থানীয় কর্মী-সমর্থকেরা পুরসভার ফাইলপত্র যাতে না সরানো হয়, সে জন্য নজরদারি শুরু করেছিলেন। তৃণমূল নেতা, জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিক্ষোভও শুরু হয়। পুর-প্রতিনিধিরা অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেন। ক্রমে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।চেয়ারম্যানেরা পুরসভায় নিয়মিত যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু ঘাটাল মহকুমার পাঁচ পুরসভাতেই এখনও পুর-প্রতিনিধিরা যাচ্ছেন না। বিধায়ক মনোনীত কমিটির নেতৃত্বেই পুরসভার কাজকর্ম চলছে। ঘাটাল, খড়ার, ক্ষীরপাই, রামজীবনপুর ও চন্দ্রকোনা প্রতিটি পুরসভাতেই বিধায়ক মনোনীত কমিটি সচল।
ওই কমিটি ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দলের নির্দেশ ছাড়া, মণ্ডল কমিটিতে আলোচনা না করে কমিটিতে কাদের, কী ভাবে স্থান দেওয়া কী ভাবে হল, আপত্তি উঠেছে তা নিয়ে। ওই কমিটি সরকারি কাজে নজরদারি চালাতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ঘাটালে বিজেপির কোন্দল নতুন নয়। বিধায়ক ঘনিষ্ঠ এক মণ্ডল সভাপতির বহিষ্কার ঘিরে এই মুহূর্তে ঘাটাল বিজেপির আড়াআড়ি বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। চন্দ্রকোনাতেও বিধায়ক বিরোধী একটি গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই আবহে বিধায়কদের নেতৃত্বে কমিটি গঠন ঘিরে বিতর্কে শোরগোল পড়েছে।
ঘাটালের পদ্ম বিধায়ক শীতল কপাট এবং চন্দ্রকোনার বিধায়ক সুকান্ত দোলইয়ের অবশ্য ব্যাখ্যা, “দল সরকারে রয়েছে। তাই এলাকায় উন্নয়নের দায়িত্ব তাদের। পুরসভায় বিজেপি এখনও ক্ষমতায় নেই। তাই যাতে উন্নয়নে কোনও খামতি যাতে না থাকে, নাগরিক স্বার্থে কাজের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা জরুরি।। তাই একটি করে কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে।’’ তাঁদের দাবি, ‘‘এই কমিটির সঙ্গে সরকারের কোনও যোগসূত্র নেই।”