Yusuf Pathan at Beldanga

নিহত শ্রমিকের বেলডাঙার বাড়িতে গেলেন সাংসদ ইউসুফ, হিংসা প্রসঙ্গে বললেন, ভুল বুঝিয়ে উস্কানি দেওয়া হয়েছে

রবিবার নিহত আলাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যেরা তাঁদের অসহায়তার কথা সাংসদকে জানান। ইউসুফ তাঁদের সব রকম সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বেলডাঙার এই তাণ্ডবের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল, সে কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০
নিহত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের সুজাপুরের বাড়িতে গেলেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান।

নিহত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের সুজাপুরের বাড়িতে গেলেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। — নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল-‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনে রবিবার সকালেই মুর্শিদাবাদের নিহত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের বাড়িতে গেলেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। সঙ্গে গেলেন স্থানীয় বিধায়ক হাসানুজ্জামান শেখ। শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন দু’জনেই।

Advertisement

ভিন্‌রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। দফায় দফায় ভাঙচুর, রেল ও সড়কপথ অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। রবিবাসরীয় সকালে পরিস্থিতি কিছুটা থিতিয়ে আসতেই নিহত শ্রমিকের সুজাপুরের বাড়িতে পৌঁছোন বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার। এলাকায় পা দিতেই স্থানীয়দের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। গত দু’দিন ধরে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা সত্ত্বেও কেন এলাকার জনপ্রতিনিধির দেখা মেলেনি, সেই প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয় ইউসুফকে। জবাবে অবশ্য সাংসদ বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষ এবং সংবাদমাধ্যমকে ভুল বুঝিয়ে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। আমি এই জেলাতেই ছিলাম। আমাদের কর্মীরাও নিচুতলার মানুষের সঙ্গে সারাক্ষণ যোগাযোগ রেখেছেন। আমি তাঁদের জন্যই কাজ করি।’’

শনিবার বেলডাঙা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বহরমপুরে রোড-শো করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, কেন ইউসুফকে আগে এলাকায় পাঠানো হয়নি। অভিষেক বলেন, ‘‘এখানে ইউসুফ আছে। ও আমাকে ফোন করে বলেছিল আমি বেলডাঙা যেতে চাই। আমি বলেছি, আজ আমার কর্মসূচি আছে। তার পর আমাদের বিধায়ক, সাংসদ, সবাই মিলে আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।’’ অভিষেক আরও জানান, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এলাকায় গেলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারত। তাই পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তবেই তিনি সাংসদকে যেতে বলেছিলেন। নেতার সেই নির্দেশ মেনে রবিবার সকালে এলাকায় যান ইউসুফ।

রবিবার নিহত আলাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যেরা তাঁদের অসহায়তার কথা সাংসদকে জানান। ইউসুফ তাঁদের সব রকম সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বেলডাঙার এই তাণ্ডবের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক ইন্ধন ছিল, সে কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। শনিবার অভিষেক এই অশান্তির জন্য সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। এমনকি, নাম না করে বিঁধেছিলেন ভরতপুরের নিলম্বিত (সাসপেন্ড হওয়া) বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও। সেই আবহে ইউসুফের ‘ভুল বুঝিয়ে উস্কানি দেওয়া’র মন্তব্য সেই বক্তব্যকেই সমর্থন করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দু’দিন উত্তেজনার পর রবিবার সকাল থেকে থমথমে বেলডাঙা। রবিবারও অশান্তি ঠেকাতে প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। কোথাও নতুন করে কোনও অশান্তির খবর মেলেনি। তবে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় এখনও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নিত্যযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। বাস চললেও তাতে ঠাসাঠাসি ভিড়। বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। শনিবার রাতেই মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার (এসপি) সানি রাজ সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় ‘মূলচক্রী’ মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের উপর আক্রমণের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন চার জন। সঙ্গে শনিবারের অশান্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্বপরিকল্পিত বলেও দাবি করেন পুলিশ সুপার।

Advertisement
আরও পড়ুন