SIR in West Bengal

ট্রাইবুনালের আপিল করতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন! পড়ে গিয়ে মৃত্যু হাঁসখালির বৃদ্ধের, এসআইআর-কে দুষছে পরিবার

জীবনকৃষ্ণের পরিবারের বাকি সদস্যেদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তিনি এবং তাঁর এক কন্যার নাম বাদ পড়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ে চম্পা বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বগুলা থেকে ট্রেনে চেপে রানাঘাটে যান তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৭

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

নদিয়ার রানাঘাটে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য এসডিও অফিসের সামনে দীর্ঘ ক্ষণ ট্রাইবুনালের আবেদন জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মৃত্যু হল বৃদ্ধের। পরিবার দুষল এসআইআর-কে। তাদের দাবি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও ‘আতঙ্কিত’ পরিবেশের কারণেই মারা গিয়েছেন হাঁসখালির বগুলা এলাকার ৬৮ বছরের বৃদ্ধ জীবনকৃষ্ণ বিশ্বাস।

Advertisement

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জীবনকৃষ্ণের পরিবারের বাকি সদস্যেদের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও তিনি এবং তাঁর এক কন্যার নাম বাদ পড়ে গিয়েছিল। প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ে চম্পা বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে বগুলা থেকে ট্রেনে চেপে রানাঘাটে যান তিনি।

রানাঘাট এসডিও অফিসের সামনে তখন থিকথিকে ভিড়। রোদে ট্রাইবুনালে আবেদন করার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বৃদ্ধকে। অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ধকল সহ্য করতে পারেননি তিনি। লাইনেই আচমকা অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান। তড়িঘড়ি তাঁকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জীবনকৃষ্ণকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের চার কন্যা এবং এক পুত্র রয়েছেন। জীবনকৃষ্ণের পুত্র ভিন্‌রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও তাঁরাই মূলত বৃদ্ধ বাবার দেখাশোনা করতেন। মেয়ে চম্পা বলেন, “সকাল থেকে নথিপত্র নিয়ে আমরা বাবার নাম তোলার আশায় এখানে এসেছিলাম। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ল। হাসপাতালে গিয়েও লাভ হল না। যা ক্ষতি হওয়ার আমাদেরই হল, এখন কে আমাদের কথা শুনবে?”

Advertisement
আরও পড়ুন