Calcutta High Court on Hawker Eviction

বৈধ হকারদের জন্য বিকল্প জায়গার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে রেলকে, এখনই উচ্ছেদ নয়, নির্দেশ হাই কোর্টের

বুধবার শুনানিপর্বে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘যে ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ২০:১৫
New order of Calcutta High Court on the eviction and demolition of hawker stalls adjacent to Railway Stations

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগা, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যতগুলি স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় রেলের উচ্ছেদের নোটিস নিয়ে মামলা হয়েছে, জুন মাস পর্যন্ত সেখানে নতুন করে আগের নোটিস কার্যকর করা যাবে না। বুধবার রেলের জমিতে জবরদখল উচ্ছেদ সংক্রান্ত ২৫ টি মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট।

Advertisement

এই মামলায় আদালতের বক্তব্য, আপাতত উচ্ছেদ করা যাবে না। জমির অবস্থান ও রেকর্ড দেখা ছাড়াও আগামী দিনে প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে কেন নোটিস জারি হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দেবে রেল। এর মধ্যে যাঁদের কোনও সময়ে রেল বসার অনুমতি দিয়েছিল (বৈধ হকার) এমন ক্ষেত্রে আগামী দিনে রেল তাদের অবস্থান জানাবে রিপোর্ট দিয়ে। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে উচ্ছেদ করার আগে বিকল্প জায়গার বিষয়টাও বিবেচনা করে আদালতে জানাতে হবে রেলকে।

অভিযোগ, এর মধ্যে বেশ কিছু জায়গায় রেলস্টেশনসংলগ্ন জায়গায় নোটিস দেওয়া হলেও, বাস্তবে সেই জমি রেলের কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই অবস্থায় আগে রেলকে এই সব জায়গায় সরেজমিনে দেখে ‘ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন’ করে আগামী দিনে রিপোর্ট দিতে হবে বলে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন। নির্দেশ দিয়েছেন, জুন মাস পর্যন্ত কোথাও কোনও উচ্ছেদ করতে পারবেন না রেল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার শুনানিপর্বে মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘যে ভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত তাঁদের সাহায্য করা।’’

রেলের জমিতে বসা দোকানদারদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টি নজরে এনে বিকাশ বলেন, ‘‘ঠেলাগাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভাল, চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের উপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না। রাষ্ট্র তাদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজ়ার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাতপাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজ়ার হামলা থেকে বাঁচতে পারছেন না। যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছে, তখনই তাকে বাধা না দিলে ২-৩ দশক পরে তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এটা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে। রাজ্যে পুলিশের সংগঠন করায় বাধা দেওয়ার মামলাতেও এই যুক্তি কাজে লেগেছিল।’’

যদিও বিকাশের যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, ‘‘রেলের জায়গা, প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সে ক্ষেত্রে রেল কি তাদের তুলবে না? কিছু ক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?’’

মামলাকারী আর এক পক্ষের আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি, বহু ক্ষেত্রে রেলযাত্রীদের একাংশ অভিযোগ করছেন বলে প্ল্যাটফর্ম ও রেলের রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। তাঁর দাবি, বারুইপুরে ১৯৯৫ থেকে রেলের লাইসেন্স পাওয়া ৪০টি পরিবারকে কোনও তারিখ, সই ছাড়া উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। শামিমের অভিযোগ, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ নিগম থেকে লাইসেন্স নিয়ে কিছু বাসিন্দা বসেছিলেন, ডানকুনি স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। তাঁদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে। সেখানে ৩২টি পরিবারের দোকান, বাসস্থান রয়েছে। রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর দাবি, ১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ টাকা জমা দেয়নি।

Advertisement
আরও পড়ুন