Halong Bonbungalow

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রুখতে হলং বনবাংলোর পুনর্নির্মাণে নয়া প্রযুক্তির ব্যবহার, শীঘ্রই শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী

১৯৬৭ সালে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্দরে তৈরি হয়েছিল হলং বনবাংলোটি। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সান্নিধ্যে থাকার অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটকদের কাছে তা ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত প্রায় ৯টা নাগাদ বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কাঠের তৈরি সেই বাংলো।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫১
New technologies to be used in the reconstruction of the Holong Forest Bungalow to prevent fire incidents; the Chief Minister will lay the foundation stone soon

হলং বনবাংলো। —ফাইল চিত্র।

অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হওয়া জলদাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী হলং বনবাংলোকে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুনের ঝুঁকি এড়াতে এ বার আধুনিক প্রযুক্তি ও অগ্নিরোধী উপকরণ ব্যবহার করে পুনর্নির্মাণ করা হবে বাংলোটি। কাঠের ঐতিহ্য বজায় রেখেই কাঠ ও কংক্রিটের মিশেলে গড়ে তোলা হবে নতুন স্থাপনা।

Advertisement

১৯৬৭ সালে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্দরে তৈরি হয়েছিল হলং বনবাংলোটি। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণের সান্নিধ্যে থাকার অনন্য অভিজ্ঞতার জন্য পর্যটকদের কাছে তা ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাত ৯টা নাগাদ বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কাঠের তৈরি সেই বাংলো। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং পর্যটন মহলেও হতাশা ছড়ায়।

পুড়ে যাওয়ার আগে বাংলোতে কাঠের আটটি কক্ষ ছিল। পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই সংখ্যক কক্ষ রাখা হবে বলে জানিয়েছে বন দফতর। তবে এ বার নির্মাণে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কারণ, আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত অরণ্যের ভিতরে সরাসরি কংক্রিটের নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কাঠের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে কাঠ ও কংক্রিটের সমন্বয়ে নিরাপদ কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিরোধী পদার্থ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, পুনর্নির্মাণের সমস্ত প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার হাতে ইতিমধ্যেই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলো পুনর্নির্মাণে রাজ্য সরকার আট কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। বন দফতর সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনী আচরণবিধি জারির আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কোনও দিন এই প্রকল্পের শিলান্যাস করতে পারেন। শিলান্যাসের পরই পূর্ণমাত্রায় নির্মাণকাজ শুরু হবে। ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার সমন্বয়ে হলং বনবাংলোকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
আরও পড়ুন