হাতির দল। ফাইল চিত্র।
দু’দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছ’বছরের শিশু। শনিবার রাতে শুরু হয় বমিও। সেই সঙ্গে আরও নানা অসুস্থতা। শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। তখনই খবর আসে, একসঙ্গে গ্রামে হানা দিয়েছে প্রায় ২৫টি হাতির একটি দল। ফলে, রাতভর অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বাড়িতেই অপেক্ষা করতে হল পরিজনদের। ভোরের আলো ফোটার পরে, হাতির দল চলে যাওয়ার খবর পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে মোটরবাইকে হাসপাতালে যান তাঁরা। আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের মধ্য নারারথলির এই ঘটনায় বন দফতরের উপরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীদের অভিযোগ, এই এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে হাতির হামলা বেড়ে চলছে। শনিবারও হাতির দল এলাকায় ঢুকে তাণ্ডব চালায় কলা ও বাঁশবাগানে। অসুস্থ শিশুটির বাবা রতন রায়ের কথায়, “এলাকায় বুনো হাতির দল ঘুরে বেড়ানোয়, কোনও যানবাহন ডাকলেও পাব না জানতাম। তাই ভোরের আলো ফোটার পরেই ছেলেকে কামাখ্যাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাই।” তিনি জানান, স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মোটরবাইকে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসার পরে সকালে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হলে, বাড়ি ফেরেন দম্পতি। রতন বলেন, ‘‘ছেলের খুব শরীর খারাপ সত্ত্বেও হাতির ভয়ে রাতে হাসপাতালে যাওয়ার সাহস পাইনি। ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই ছিলাম। ভোরে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই, তখনও রাস্তার ধারে নানা বাঁশবাগানে হাতি ছিল। বিষয়টি বন দফতরের দেখা উচিত।’’
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পূর্ব বিভাগের এক আধিকারিক জানান, এ ধরনের ঘটনা সব সময়েই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। তবে হাতির দলের জন্য অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হওয়ার খবর তাঁদের জানা নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে আশ্বাস তাঁর। এলাকায় হাতির আনাগোনা হলে বাসিন্দারা যাতে বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে আর্জিও জানান ওই আধিকারিক।