West Bengal Elections 2026

নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রচার

নির্বাচক মণ্ডলীর কাছে গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের আবেদন বলে ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে।

সৌমিত্র কুন্ডু
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৭
এস আই আর নিয়ে শিলিগুড়ি ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শিলিগুড়ি কলেজ লাগোয়া এলাকায় পোস্টার।

এস আই আর নিয়ে শিলিগুড়ি ১৭ নম্বর ওয়ার্ড শিলিগুড়ি কলেজ লাগোয়া এলাকায় পোস্টার। ছবি: বিনোদ।

গোবলয়ের সংস্কৃতি বাংলায় নয়। লেখক, নাট্য ব্যক্তিত্ব, পরিবেশপ্রেমী, শিক্ষক, অধ্যাপক, খেলোয়াড়, চিত্রশিল্পী-সহ বিভিন্ন পেশার বাসিন্দা অনেকের নাম দিয়ে সেই বার্তা লিফলেট করে বিলি করা হল শিলিগুড়িতে। রবিবার টিকিয়াপাড়া বাজারে ওই ব্যক্তিত্বদের একটি দলকে দেখা যায় লিফলেট বিক্রি করতে। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কারণে অনেকে বিপাকে পড়েছেন বলে ওই সমস্ত সহনাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে ব্যানারও পড়ল।

শিলিগুড়ি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এ দিন এ ধরনের ব্যানার রাস্তার ধারে দেওয়ালে অনেক জায়গা দেখা গিয়েছে। তাতে বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের ছবি এবং নাম দিয়ে ব্যানারে জানিয়েছেন— ‘এই এসআইআর নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। আমি আমাদের সহনাগরিকদের জন্য চিন্তিত’। বাচিক শিল্পী অরুময় চক্রবর্তী, চিত্রশিল্পী মৌসুমী দে, বাউল অর্জুন দাস এমন অনেকের ছবি সম্বলিত ব্যানার পড়া দেখে গুঞ্জন ছড়িয়েছে শহরে। অনেকেই মনে করছেন বিজেপি বিরোধী এই পোস্টার এবং বার্তা দেওয়া হয়েছে ভোটের কয়েকদিন আগে মানুষকে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে। আবার লিফলেটে বলা হয়েছে, গোবলয়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বাংলায় কাঙ্খিত নয়। নির্বাচক মণ্ডলীর কাছে গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের আবেদন বলে ওই বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে।

শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা নেই। তাই এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না।’’ তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, ‘‘শিক্ষিত মানুষ, সমাজের বিভিন্ন পেশার বাসিন্দারা ওই লিফলেট বিলি করে বার্তা দিচ্ছেন। তাঁরা পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন বলেই এটা করছেন।’’ সিপিএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী মনে করেন, ধর্ম সকলে নিজের মতো পালন করবেন। তা নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়। তিনি বলেন, ‘‘লিফলেট বিলি করে কিছু মানুষ যে কথা বলতে চাইছেন তা বাস্তব। এসআইআর প্রক্রিয়াতে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন সে তো সকলেই দেখেছেন।’’ কংগ্রেসের নেতৃত্বও ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলছেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুবীন ভৌমিক বলেন, ‘‘বিভাজনের রাজনীতিকে আমরাও প্রশ্রয়দিই না।’’

যাঁরা লিফলেট বিলি করছেন তাঁদের অন্যতম তথা নাট্য ব্যক্তিত্ব পলক চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমরা মানুষকে সচেতন করছি। ধর্মনিরপেক্ষ থাকার জন্য বলছি। বাংলার যে সংস্কৃতি রয়েছে তাঁকে যেন আমরা রক্ষা করি।’’ তিনি জানান লিফলেটে তাঁদের দাবি, সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা তাঁদের বিশ্বাসের ভিত্তিভূমি। যদি কোনওদল বা প্রার্থী সেই বিশ্বাসে আঘাত করতে চান তা প্রতিরোধ করা নাগরিকদের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন