করলায় ভেসে ওঠা মরা মাছ ধরতে ভিড়। রবিবার জলপাইগুড়িতে। ছবি: সন্দীপ পাল।
নদীতে ভেসে উঠেছে রুই, চিতল, ফলি, সরপুঁটি-সহ অজস্র মরা মাছ। হাতের নাগালে এত মাছ ভাসতে দেখে বাসিন্দাদের একাংশ নেমে পড়েন নদীতে। রবিবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরে দেখা গেল এমনই দৃশ্য। শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া করলা নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ জুড়ে মাছের এমন মড়ক দেখা যায় এ দিন। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, নদীর জলে বেশি মাত্রায় বিষ ঢালা হয়েছে। মৎস্য দফতরের দাবি, রবিবার সন্ধে পর্যন্ত অন্তত পনেরো প্রজাতির মৃত মাছ চিহ্নিত হয়েছে। আপাতত এলাকায় নদীর মাছ কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০১১ সালেও করলা নদীতে মাছের মড়ক হয়েছিল। তবে মৎস্য দফতরের দাবি, এ বারের ক্ষতি ভয়াবহ। কারণ, প্রচুর ডিমভরা মাছ মরেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে মৃত্যু হয়েছে ছোট মাছেরও। জেলা মৎস্য আধিকারিক রমেশচন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “অপূরণীয় ক্ষতি হল। মৃত মাছের নমুনা, জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।”
একাধিক চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে করলা নদী জলপাইগুড়ি শহরে ঢোকে। এই নদী মিশেছে তিস্তায়। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের সন্দেহ, চা বাগানে ব্যবহার করা বিষ নদীতে ঢালা হতে পারে বলে সন্দেহ। অন্য অংশের আশঙ্কা, শহর লাগোয়া এলাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরার জন্য কিছুটা দূরে নদীতে বিষ ঢালা হতে পারে। বেশি ক্ষতি হয়েছে নদী জলপাইগুড়ি শহরে ঢোকার পরে, প্রথম দু’কিলোমিটার এলাকায়। সেখানে নদীর মাছের ৯০ শতাংশ মারা গিয়েছে বলে আশঙ্কা। মাছ ছাড়াও শামুক, ছোট চিংড়ি-সহ জলজ প্রাণীর মড়ক দেখা গিয়েছে। মরা মাছের মধ্যে ছোট ছোট বোয়ালও মিলেছে। এই ঘটনার পরে জলপাইগুড়ি শহরে সাত দিন স্থানীয় নদিয়ালি মাছ কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুরসভা। এ বিষয়ে মাইকে প্রচারও চলেছে। জলপাইগুড়ির পুরপ্রধান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “নদিয়ালি মাছ আপাতত বিক্রি বা কেনা যাবে না। পুরসভা নজর রাখবে।”