মজুত করা হয়েছে আবিরের বস্তা। বুধবার সাঁইথিয়ার একটি দোকানে। ছবি: পাপাই বাগদি।
দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হল বুধবার। সোমবার ভোট গণনা। ফল প্রকাশের পর শুরু হবে বিজয় উৎসব। তাই সবুজ ও গেরুয়া আবির কেনাবেচা হবে ধরে নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তবে লাল আবিরও রাখছেন তাঁরা। কোথাও বিক্রি শেষ হয়ে গেলেও, জেলার কোথাও কোথাও এখনও দোকানেই মজুত আবির।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুবরাজপুরের একটি প্রতিষ্ঠিত দশকর্মা ভান্ডারের মালিক জানালেন, ‘‘সবুজ ও গেরুয়া দুই ধরনের আবির কমপক্ষে ১০০ বস্তা করে মজুত করেছি। এখনও পর্যন্ত যা চিত্র তাতে গেরুয়া আবিরের চাহিদা বেশি।’’ ওই দোকানদার জানাচ্ছেন, ‘‘হাতের পাঁচ কয়েক বস্তা লাল আবিরও রেখেছি।’’ দুবরাজপুরে আগের বার বিজয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী অনুপ সাহা। প্রতিপক্ষ তৃণমূলের নরেশচন্দ্র বাউড়ির সঙ্গে এ বারও যথেষ্ট লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি। ফলে চাহিদা বেড়েছে গেরুয়া আবিরের।
মুরারই পশ্চিম বাজারের আবিরের পাইকারি ব্যবসায়ী জগন্নাথ সেবা দত্ত হিসেব কষে গেরুয়ার থেকে সবুজ আবির বেশি মজুত করেছিলেন। তিনি জানালেন, ‘‘১০ কেজি ওজনের বস্তায় ৫০০ বস্তা মজুত করেছিলাম। এলাকার ব্যবসায়ীরা আবির কিনছেন। ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ সবুজ আবির বিক্রি হয়ে গিয়েছে। ১০ শতাংশ গেরুয়া আবির বিক্রি হয়েছে।’’
মুরারই আসনে ণমূল প্রার্থী মুশারফ হোসেন ও কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জীবুর রহমানের মধ্যে লড়াই হবে বলে অনেকে মনে করছেন। কংগ্রেস বা তৃণমূল যে প্রার্থীই জিতুন, সবুজ আবিরই চাই। সেটা ভেবেই এগোচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বস্তাপিছু আবিরের দাম ৫০০ টাকা।
নিজেরাই আবির তৈরি করে বিক্রি করেন সাঁইথিয়ার পীযূষ দত্ত। তিনি জানাচ্ছেন, দোলের সময়ই নির্বাচনের কথা ভেবে সবুজ ও গেরুয়া আবির বেশি করে তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘গেরুয়ার চাহিদা এ বার অনেকটাই বেশি। তবে সবুজ আবিরও বিক্রি হচ্ছে।’’
লাভপুরের দুই ব্যবসায়ী জানাচ্ছেন, দুই রঙের আবিরই তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে বেচাকেনা সে ভাবে শুরু হয়নি। হয়তো দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের অপেক্ষা ছিল। অন্য দিকে প্রায় একই বক্তব্য সিউড়ি টিনবাজারের আবির ব্যবসায়ী জয়দীপ দাসের। তিনি জানিয়েছেন, নতুন করে আর আবির আনিনি। হোলির সময় থেকে দুই রঙের আবির রাখা রয়েছে। তবে বুধবার পর্যন্ত আবিরের বেচাকেনা শুরু সে ভাবে হয়নি।