—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
জেলায় গড়ে উঠবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র (ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব)। সোমবার রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি শিল্প পার্কের পাশাপাশি সাঁইথিয়ার আমোদপুর শিল্প পার্কে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই প্রকল্প গড়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বীরভূমের শিল্প-মানচিত্রে বদল আসবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। যদিও জেলা প্রশাসনের কাছে এ নিয়ে কোনও সবিস্তারে তথ্য এসে পৌঁছয়নি বলে জানা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের একটি অংশ মনে করেছে, সাঁইথিয়ার আমোদপুরে যে শিল্প পার্ক রয়েছে সেখানেই এটি তৈরি হতে পারে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ১৯৭৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমোদপুরের 'ন্যাশনাল সুগার মিল' কিনে নেয়। এটি 'আমোদপুর সুগার মিল' নামে পরিচালিত হতে থাকে। বেশ কয়েক বছর চলার পরে ধীরে ধীরে এ মিলের উৎপাদন কমতে শুরু করে। ২০০২-০৩ সাল নাগাদ এ কারখানার উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল সেই সুগার মিল। বিগত সরকারের আমলে সেখানে শিল্প পার্ক গড়ে তোলা হয়। যদিও সেখানে কোনও শিল্প তৈরি হয়নি।
এ শিল্প গড়ে জেলায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক দিকে যেমন ইঞ্জিনিয়ার, আইটি বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তিবিদদের মতো দক্ষ ও উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য প্রত্যক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই পরোক্ষ রুজির সুযোগও তৈরি হবে। অনেক অদক্ষ শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন।
এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লাভবান হবেন স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরাও। মূল কারখানার জন্য নানা কাঁচামাল জোগাতে এলাকায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ হবে। বিশ্বভারতীর অর্থনীতির শিক্ষক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, "ডিফেন্স হাব জেলাতে হলে কর্মস্থানের পাশপাশি এলাকার অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যায়।" অন্য দিকে, স্থানীয় বিধায়ক দেবাশিস ওঝা বলেন, "মানুষকে যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী সবটাই এগোচ্ছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য কাজ জারি থাকবে।"
জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানান, বাজেটে এরকম ঘোষণা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখনও প্রশাসনের কাছে এরকম কিছু নির্দেশিকা আসেনি। আসলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।