—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
গ্রামে আসার রাস্তা ছিল না। আসতে চাইতেন না আত্মীয় কুটুম্বেরা। গ্রামে ঢুকতে পারত না অ্যাম্বুল্যান্স। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। পাকা রাস্তা পেলেন আড়শা ব্লকের মানকিয়ারি পঞ্চায়েতের গুঁদলিগোড়া গ্রামের মানুষজন। স্বাধীনতার এত বছর পরে এই প্রথম গ্রামের সঙ্গে মূল সড়কের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ায় খুশি বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রের খবর, গুঁদলিগোড়া গ্রামে প্রায় একশো আদিবাসী পরিবারের বাস রয়েছে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে গৌরা নদী। এতদিন মূল রাস্তায় পৌঁছতে গ্রামবাসীর ভরসা ছিল এক কিলোমিটার জমির আলপথ। বিশেষ করে বর্ষাকালে যাতায়াতে ভোগান্তি চরমে উঠত। ছোট ছোট পড়ুয়ারা প্রতিদিন কাদামাটি মাড়িয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেত।
এত দিন জমির অভাবে রাস্তার কাজ হয়নি। রাস্তা তৈরির জন্য গ্রামের বহু মানুষ স্বেচ্ছায় জমি দান করেন। তাতে জমি জট কাটে। তারপরে রাজ্য সরকারের ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পে বরাদ্দ মেলে। সেই অর্থেই গ্রামের কাঁচা রাস্তা ঢালাই করে পাকা করা হয়েছে।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মতিলাল মাঝি, অবিনাশ মাঝির কথায়, “স্বাধীনতার পরে এই প্রথম আমাদের গ্রামে রাস্তা হল। বহুবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হয়েছে।” চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী পায়েল মাহালি জানায়, এ বার সাইকেল করে সহজেই স্কুলে যেতে পারবে।
গ্রামবাসী ধনঞ্জয় মাহালির কথায়, রাস্তা না থাকায় এতদিন আত্মীয়-স্বজনও গ্রামে আসতে চাইতেন না। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেও সমস্যায় পড়তে হত। ভোটের আগে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছি।’’
আড়শা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বরূপ মাঝি জানান, জমি সংক্রান্ত জটের কারণে এতদিন কাজ আটকে ছিল। সমস্যা মিটতেই ‘পথশ্রী-রাস্তাশ্রী’ প্রকল্পেরাস্তা নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।