WB Elections 2026

জনজাতি আবেগে শাণ প্রধানমন্ত্রীর

দুই সভাতেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি আদিবাসীদের উন্নয়নে কতটা সচেষ্ট, তাঁর বিবরণ।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২৫
বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাঁকুড়ার ডোকরার দুর্গামূর্তি উপহার।

বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়ার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাঁকুড়ার ডোকরার দুর্গামূর্তি উপহার। ছবি: অভিজিৎ সিংহ।

কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওই আশ্বাসের পরে প্রকাশ্যে বিজেপিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে আদিবাসী কুর্মি সমাজ। চলছে বিজেপির হয়ে প্রচারও। এ বারে, পদ্ম-শিবিরের লক্ষ্য আদিবাসী-ভোট। রবিবার পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় জোড়া সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে যেন তারই প্রতিফলন মিলল। টানলেন কুর্মিদের প্রতি তৃণমূলের ‘বঞ্চনার’ প্রসঙ্গ। স্থানীয় কৃতীদের কথা টেনে জেলাবাসীর আবেগ ছোঁয়ার চেষ্টাতেও খামতি দেখা গেল না।

এ দিন বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”এখানে যে কুর্মি সম্প্রদায় আছে, তাদের কথা তৃণমূল শুনতেই চায় না। ওরা অনুপ্রবেশকারীদের কথা শোনে।” তৃণমূলের পুরুলিয়ার চেয়ারপার্সন শান্তিরাম মাহাতোর পাল্টা দাবি, নির্বাচনের মুখে কার্যত মিথ্যাচার করে কুর্মি সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীই বরং কুর্মি সমাজের দাবি-দাওয়াকে স্বীকৃতি দিতে আন্তরিক ভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারই সেই দাবিকে মান্যতা দিতে চাইছে না।

দুই সভাতেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি আদিবাসীদের উন্নয়নে কতটা সচেষ্ট, তাঁর বিবরণ। পুরুলিয়ায় তিনি বলেন, ”বিজেপির সরকারই আদিবাসীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে। গত ১১ বছরে আদিবাসীদের উন্নয়নে বাজেট তিন গুণ হয়েছে।” পাল্টা তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে আদিবাসী জেলাগুলি পিছিয়ে পড়েছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল, হাসপাতাল—সব কিছুই বেহাল। আদিবাসীদের জমি সিন্ডিকেট দখল করে বসে আছে।

পুরুলিয়ায় কম-বেশি ২২ শতাংশ আদিবাসী-ভোট রয়েছে। জেলার অর্ধেকের বেশি আসনে ওই ভোট জয়-পরাজয়ে নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। বাঁকুড়াতেও রানিবাঁধ, রাইপুর আসন আদিবাসী অধ্যুষিত। ছাতনা কেন্দ্রে আদিবাসী-ভোট অনেকাংশে প্রভাব ফেলতে পারে। দু’জেলায় শাসক দলের প্রতি আদিবাসীদের ক্ষোভ থাকলেও কুর্মি সমাজের মতো তাঁরা প্রকাশ্য বিরোধিতায় নামেননি। পুরুলিয়ার তৃণমূলের সভাপতি রাজীবলোচন সরেনের কটাক্ষ, আসলে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে যে ভাবে আদিবাসীদের জমি দখল করা হয়, তা প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যের বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছেন। তাঁর দাবি, ”দেশে একমাত্র এই রাজ্যেই আদিবাসী সম্প্রদায় সুরক্ষিত। তাঁদের জমি রক্ষায় বিধানসভায় আইন পাশ করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

এ দিন দুই সভাতেই বিভিন্ন ভাবে প্রধানমন্ত্রীর বার বার স্থানীয় প্রসঙ্গ টানার চেষ্টাকেও নির্বাচনী আবহে তাৎপর্যপূর্ণ মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মত, শাসক দলের তরফে ক্রমাগত ‘বহিরাগত’, বাংলা-বিদ্বেষী’ প্রচারের প্রত্যুত্তর দিতেই সচেতন ভাবে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রসঙ্গ টেনেছেন। পুরুলিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় তেলেভাজা, ভাবরার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ”নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনে ভাবরা ও পিঠে খাওয়ার উৎসব হবে।” অযোধ্যা পাহাড়, সীতাকুণ্ডের কথা উল্লেখের সঙ্গে মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সেনানীদের প্রণাম জানিয়েছেন। উল্লেখ করেছেন ‘মানভূম জননী’ লাবণ্যপ্রভা ঘোষ, চুনারাম মাহাতো, গোবিন্দ মাহাতোদের নাম। বাঁকুড়াতেও ‘এই মাটি মা সারদার পবিত্র মাটি’ জানিয়ে সভার শুরুতে তাঁর মুখে ছিল মদনমোহন, শ্যামরাই, এক্তেশ্বর মন্দিরের প্রসঙ্গ।

আরও পড়ুন