Recognition of refugee colonies

বিধানসভা ভোটের আগে উদ্বাস্তু কলোনির স্বীকৃতি, বিজেপির ভোট টানতেই পদক্ষেপ শাসকদলের?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উদ্বাস্তু কলোনি এলাকাগুলি বিরোধী দল বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। শাসকদল তৃণমূল সেই ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতেই প্রশাসনিক ভাবে সক্রিয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭
Recognition of refugee colonies ahead of the assembly elections sparks speculation in political circles

১৪টি উদ্বাস্তু কলোনিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে রাজ্য সরকার । গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সামনে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে পারে উদ্বাস্তু ভোট। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের একগুচ্ছ উদ্বাস্তু কলোনিকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, সরকারি ও বেসরকারি জমিতে অবস্থিত বিভিন্ন জেলার আরও ১২টি উদ্বাস্তু কলোনিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া আবেদনের ভিত্তিতে এই সমস্ত কলোনির বাসিন্দাদের হাতে বসবাসের শংসাপত্র তুলে দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিল ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পর কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার ছাড়পত্র দেয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা। এর পর বাকি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ায় উদ্যোগী নবান্নে।

Advertisement

নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কলোনির তালিকায় রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের বীরনগর কলোনি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় রয়েছে দ্বিজহরি স্কোয়্যার কলোনি, চাষিপাড়া কলোনি, নিউ ফরোয়ার্ড কলোনি (পার্ট ২বি) এবং মানসা কলোনি। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক উদ্বাস্তু কলোনি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কামরা কলোনি, আনন্দময়ী পার্ক উদ্বাস্তু কলোনি, রামকৃষ্ণ পল্লি উদ্বাস্তু ফেজ–২ কলোনি ও সুকান্ত সরণি উদ্বাস্তু কলোনিও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারের বিবেচনাধীন ছিল। আইনি ও প্রশাসনিক নানা জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে। মন্ত্রিসভায় বিষয়টি অনুমোদন পাওয়ায় অবশেষে কলোনিগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ সুগম হয়েছে। দফতরের দাবি, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাজনীতি বা ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং মানবিক ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ।

তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উদ্বাস্তু কলোনি এলাকাগুলি বিরোধী দল বিজেপির একটি শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। শাসকদল তৃণমূল সেই ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতেই প্রশাসনিক ভাবে সক্রিয় হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে বিধানসভা ভোটের মুখে উদ্বাস্তু কলোনির স্বীকৃতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন