Interim Budget session of the West Bengal Assembly

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে পেশ হবে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট, নজর থাকবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার নয়া ঘোষণায়

রাজ্য সরকারের তরফে বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট পেশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার তেমন সম্ভাবনাও থাকছে বলেই ধরে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩০
The budget session of the West Bengal Assembly is going to start in the first week of February before the assembly elections

(বাঁ দিকে) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটিই হবে বর্তমান সরকারের শেষ অধিবেশন এবং এই অধিবেশনেই পেশ করা হবে অন্তর্বর্তী বাজেট। রাজ্য সরকারের তরফে বাজেট পেশ করবেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তবে তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগের অন্তর্বর্তিকালীন বাজেট পেশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার তেমন সম্ভাবনাও থাকছে বলেই ধরে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সচিবালয়। ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—উভয় মহলেই এই অধিবেশন ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল ও জল্পনা। অন্তর্বর্তী বাজেট হওয়ায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা না হলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জনহিতকর একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

Advertisement

এই অধিবেশন হবে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন। নিয়মিত পরিষদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব, উল্লেখপর্ব এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সরকারের অন্দরে আলোচনা, প্রশাসনিক কাঠামো ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংশোধনী এবং নতুন প্রস্তাব এই অধিবেশনে আইনি স্বীকৃতি পেতে পারে। নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান—এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী ও খাদ্যসাথী প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই বাজেট কার্যত সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’ হিসেবে কাজ করবে।

অন্যদিকে, এই অধিবেশনে বিরোধী দলের ভূমিকাও নজর কাড়বে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দল কী ধরনের কৌশল নেয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু—নিয়োগ দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ এবং রাজ্যের আর্থিক অবস্থার মতো বিষয়গুলি নিয়ে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করতে পারে বলে ধারণা। একই সঙ্গে শাসকদল তৃণমূলও তাদের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বিরোধীদের মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। সব মিলিয়ে, আসন্ন বাজেট অধিবেশন শুধুমাত্র আর্থিক নথি পেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। গত পাঁচ বছরে বিধানসভার অন্দরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন তৃণমূল ও বিজেপির বিধায়কেরা। তাই শেষ অধিবেশনে বাংলার রাজনীতির উত্তাপ বৃদ্ধি পেতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Advertisement
আরও পড়ুন