তৃণমূলের নিশনায় মনোজ আগরওয়াল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সোমাবার রাতে শুরুটা করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার দোলের দুপুরে তাতেই আরও শান দিতে সমাজমাধ্যমের ময়দানে নামলেন তৃণমূলের তরুণ মুখপাত্রেরা। নিশানায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
২০১৩ সালের একটি খবরের স্ক্রিনশট পোস্ট করে সোমবার রাতে মনোজের উদ্দেশে চন্দ্রিমা লিখেছিলেন, ‘‘মনোজ আগরওয়াল আধিকারিকদের লক্ষ্মণরেখা মনে করিয়েছেন এবং সার্ভিস রুল বুক সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন। কিন্তু কোথায় তাঁর নৈতিকতা থাকে, যখন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটে অবৈধ সম্পত্তি ও ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ রয়ে যায়?’’
চন্দ্রিমার বেঁধে দেওয়া সুরেই মঙ্গলবার একের পর এক পোস্ট করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং ঋজু দত্ত। তাঁদের বক্তব্য, অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার আগে মনোজ যেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। নইলে তিনি যেন সরে যান। দেবাংশু আবার তাঁর পোস্টে ‘ভ্যানিশ কুমার’ (মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূল এই নামেই কটাক্ষ করছে) প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। টেনে এনেছেন ২০০৬ সালে কেরলে রাস্তা কেলেঙ্কারি এবং তজ্জনিত কারণে মালয়েশিয়ার একটি সংস্থার এক মহিলার আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা। ঘটনাচক্রে, জ্ঞানেশ কুমার কেরল ক্যাডারের আইএএস অফিসার ছিলেন।
উল্লেখ্য, এসআইআর পর্বের শুরুতে সিইও মনোজের নাম না-করে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এখানে যিনি আছেন, তাঁর নামে কী কী আছে, সেগুলি সময় হলে প্রকাশ্যে আনব। আমরা কিন্তু সব জানি।’’
এসআইআর পর্বের পরে গত শনিবার চূড়ান্ত তালিকার আংশিক প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। যেখানে ৬০ লক্ষের বেশি নাম রাখা হয়েছে বিবেচনাধীন হিসাবে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে তৃণমূল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথাও বলে রেখেছেন। তালিকা প্রকাশের সাংবাদিক বৈঠকে মনোজ বলেছিলেন, ‘‘এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। যেখানে ভুল হয়েছে, সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’’ রবিবার অভিষেক পাল্টা বলেছিলেন, ‘‘১৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গেলেন, আর মনোজ বলছেন ছোটখাটো ব্যাপার। জ্যান্ত মানুষকে মৃত দেখিয়ে দেওয়া হল, বলছেন ছোটখাটো ব্যাপার!’’ এই আকচাআকচির মধ্যেই এ বার সরাসরি মনোজকে নিশানা করে আক্রমণ শুরু করল তৃণমূল।