TMC Campaign Film

শাশুড়ি-বৌমার তিক্ততা ঘুচিয়ে দিচ্ছে মমতার সরকার, প্রকল্পই জাদুকাঠি, শুভশ্রীদের দিয়ে ছবি নির্মাণ অভিষেকের, চলবে প্রচার

ছবিতে শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত। বৌমার চরিত্রে রয়েছেন অভিনেত্রী তথা রাজ-জায়া শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২৯
(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও সোহিনী সেনগুপ্ত।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় ও সোহিনী সেনগুপ্ত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক কৃষকের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী আচমকাই তাঁর স্বামীকে হারিয়েছেন। মাঠে কাজ করতে করতে হঠাৎ হৃদ্‌রোগ। সব শেষ। উঠোনে শোয়ানো স্বামীর মৃতদেহের সামনে ভেঙে ফেলা হচ্ছে তরুণীর শাঁখা-পলা। মুছে দেওয়া হচ্ছে সিঁথির সিঁদুর। আর দেহ সৎকারের আগেই শাশুড়ির কাঠগড়ায় বৌমা।

Advertisement

সেই যে শুরু, তা চলতে থাকছে। এর মধ্যেই রুখে দাঁড়াচ্ছেন স্বামীকে হারানো স্ত্রী। সাহায্য নিচ্ছেন রাজ্য সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধির। অভাবের সংসারে রুপোলি রেখা হয়ে হাজির হচ্ছে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। আধপেটা খাওয়া জীবনে আবির্ভূত হচ্ছে ডিম-ভাতের গন্ধ। বন্ধ্যা জমিতে সেই তরুণী ফসল ফলাতে পাচ্ছেন ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সহায়তা। পাচ্ছেন সবনির্ভরগোষ্ঠীর ঋণ। শুরু হচ্ছে বন্ধ্যা জমিতে চাষাবাদ। কিন্তু গঞ্জনা থামছে না। এক দিকে শাশুড়ি, অন্য দিকে গ্রামের স্থানীয় মোড়ল এবং তাঁর বাহিনীর কুনজরে রোজ পিষতে হচ্ছে তরুণীকে। বাড়িতে নাবালিকা ননদ। শাশুড়ির মদতেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল তার। রুখে দিলেন বৌদি। পাঠালেন স্কুলে। সে মেয়ে পেল ‘কন্যাশ্রী’। তার পর হাঁটুর ব্যথায় কাবু শাশুড়ির চিকিৎসার বন্দোবস্ত করালেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে। ঝড়ে ভেঙে যাওয়া মাটির বাড়ি পাকা করে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। তৈরি হল ‘বাংলার বাড়ি’। তার সেই শাশুড়িই বৌমাকে বরণ করে ঘরে তুললেন। শাশুড়ি-বৌমার তিক্ততা ঘুচিয়ে দিল মমতার সরকারের একের পর এক প্রকল্প।

এ হেন চিত্রনাট্যেই ৫৫ মিনিটের ছবি নির্মাণ করল তৃণমূল। যা ভোটের আগে পাড়ায় পাড়ায় প্রচার করা হবে। পর্দা ঝুলিয়ে দেখাবে শাসকদল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ছবি নির্মিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে ছবির পরিচালক অরিজিৎ চক্রবর্তী হলেও নেপথ্য কারিগর পরিচালক তথা ব্যারাকপুরের বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। তৃণমূল নির্মিত ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’র প্রথম প্রদর্শনী হয়ে গেল বুধবার নন্দনে। যেখানে হাজির রইলেন অভিষেক। ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা ও লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ একাধিক মন্ত্রীও। ছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, হরনাথ চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকারদের মতো টলিউ়ডের বেশ কিছু পরিচিত মুখও।

ছবিতে কৌশলে ব্যবহার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা না-দেওয়ার তৃণমূলের রাজনৈতিক অভিযোগ। এসেছে এসআইআর প্রসঙ্গও। ঘটনাচক্রে, যে যে ভাষ্য নিয়ে তৃণমূল বিধানসভা ভোটের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে, মোটামুটি সবই ছুঁয়ে গিয়েছে রাজের টিম।

ছবিতে শাশুড়ির চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী সেনগুপ্ত। বৌমার চরিত্রে রয়েছেন অভিনেত্রী তথা রাজ-জায়া শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, অঙ্কুশ হাজরা, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। ছবিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তুলে ধরা হয়েছে মমতার সরকারের প্রকল্পগুলিতে মহিলারা কতটা লাভবান হচ্ছেন। ঘটনাচক্রে, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে মহিলা সমর্থনই মমতার অন্যতম রাজনৈতিক পুঁজি। যা ক্রমে দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে।

তৃণমূলের নির্মিত ছবিতে স্পষ্ট গ্রাম-মফস্সল এবং শহর এলাকার গরিব অঞ্চলের কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে গত লোকসভা ভোটেও তৃণমূল সাফল্য পেয়েছে। ছবির প্রদর্শন শেষে রাজ জানিয়েছেন, ১৫ দিনের মধ্যে এই ছবি নির্মাণ করতে হয়েছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। অভিষেক নিজে চিত্রনাট্য শুনে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না এ ছবি অস্কার মনোনয়নের জন্য বানায়নি তৃণমূল। এ ছবি প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ভোটের প্রচার। ছবি দেখার পরে তৃণমূলের এক প্রবীণ সাংসদ দাবি করলেন, রাজ্যের ৭৫ শতাংশ এলাকার জন্য এই ছবি বাস্তবসম্মত। মানুষ, বিশেষ করে রোজকার জীবনের সঙ্গে একাত্মিকরণ করতে পারবে। কতটা তা বাস্তবায়িত হচ্ছে, বোঝা যাবে ভোটের ফলপ্রকাশের পরে।

Advertisement
আরও পড়ুন