রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা। — নিজস্ব চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মধ্যে ফের দু’জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। এখনও পর্যন্ত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে বুধবার নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল লোক-খেপাতে চাইছে বলে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি।
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের গুমা শান্তিনগরের নিখিল দাস (৬২) এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের ফয়েজউদ্দিন সরকারের (৬৬) মৃত্যুর নেপথ্যে এসআইআর-আতঙ্কের অভিযোগ উঠেছে। দু’টি মৃত্যুই মঙ্গলবারের। মতুয়া সম্প্রদায়ের নিখিল গুমা স্টেশনের কাছে ট্রেনের ধাক্কায় মারা গিয়েছেন। পুত্রবধূ শ্রাবণীর দাবি, “শুনানি-নোটিস পেয়ে শ্বশুরমশাই বলতেন, ‘বাংলাদেশে তাড়িয়ে দেবে’। হয়তো এই আতঙ্কেই মৃত্যু।” বিজেপি-র দাবি, নিখিলের পরিবারে অশান্তি ছিল। শুনানি-কেন্দ্র থেকে আসার পরে ফয়েজউদ্দিন অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরিবারের দাবি, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় চিন্তায় ছিলেন তিনি। চিকিৎসকেরা মৃত্যুর কারণ হিসাবে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কথা বলেছেন।
এই অবস্থায় কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানের অবসরে তৃণমূল নেতা অভিষেক বলেছেন, “আমরা এসআইআর নয়, পরিকল্পনাহীন কাজে মানুষের হয়রানির বিরোধিতা করেছি। প্রায় ৮০ জন মারা গেলেন। দায় কমিশনের।” রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার পাল্টা বলেছেন, “অন্য রাজ্যে এসআইআর-এর জন্য হয়রানি, মৃত্যুর অভিযোগ নেই। বিহারেও এসআইআর-এ অসুবিধা হয়নি। মানুষ দেখেছেন, ঋণ নিয়ে টাকা নিয়ে ফেরত না-দিয়ে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বিএলও-কে হুমকি দেয়, আরও নানা ঘটনা ঘটে। তৃণমূল মানুষকে খেপাতে চাইছে।”
এসআইআর-চাপে অসুস্থতার অভিযোগও সামনে এসেছে। পরিবারের দাবি, শুনানি-কেন্দ্রে গিয়ে অসুস্থ উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর গোপালনগরের বাসিন্দা বছর ৭০-এর নমিতা ব্রহ্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বুথ লেভ্ল অফিসার (বিএলও) মহম্মদ মাসিরুল ইসলামও। বিএলও-র দায়িত্ব থেকে ইস্তফা চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছেন মাসিরুলের স্ত্রী রুবিনাজ পারভিন।
সাধারণ মানুষের হয়রানি, বৈধ নাম কাটার মতো অভিযোগে বেড়াচাঁপা-বাদুড়িয়া রাস্তা এবং উত্তর কাশীপুর থানার শানপুকুর বাজারে হয়েছে পথ অবরোধ। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছেন, “বিজেপির কথায় বাংলার উপরে পুরো বিষয়টা চাপিয়েছে কমিশন। শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে নাম কাটছে। বার বার ডেকে হয়রানির পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। কমিশনের প্রকল্প, ভোটার তালিকার গণহত্যা!”
নানা দাবিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে দেখা করার পরে তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক দাবি করেছেন, “প্রত্যেক ভোটারকে শুনানিতে জমা নেওয়া নথির প্রমাণ দিতে হবে কমিশনকে।” পাশাপাশি, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে ভোটার-হেনস্থার অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন পার্থেরা। উল্টো দিকে, প্রশাসনের সঙ্গে তৃণমূলের বোঝাপড়া, ইআরও, এইআরও-দের বিরুদ্ধে নিয়ম না-মানার মতো নানা অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি-ও।