West Bengal Lokayukta

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ! ১৮ বছর পর প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এফআইআরের সুপারিশ লোকায়ুক্তের

রিপোর্টে বলা হয়েছে, অভিযোগকারিণী ভারতী হালদার ১৯৮৯ সালে চাঁদপুর মৌজায় একটি জমি ক্রয় করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতিবেশী দেবেন্দ্রনাথ হালদার ওই জমিতে জোর করে পাকা নির্মাণ শুরু করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২১:১২

— প্রতীকী চিত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় একটি জমি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে প্রায় ১৮ বছর আগে একটি মামলা রুজু হয়েছিল। সেই মামলায় কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গ লোকায়ুক্ত। চাঁদপুর-চৈতন্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান মনাশি হালদার এবং প্রাক্তন উপপ্রধান অজিত নস্করের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরুর সুপারিশ করেছে লোকায়ুক্ত। পাশাপাশি অভিযোগকারীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

Advertisement

লোকায়ুক্ত বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের প্রকাশিত তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, অভিযোগকারিণী ভারতী হালদার ১৯৮৯ সালে চাঁদপুর মৌজায় একটি জমি ক্রয় করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রতিবেশী দেবেন্দ্রনাথ হালদার ওই জমির উপর জোর করে পাকা নির্মাণ শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি স্থানীয় পুলিশ, গ্রাম পঞ্চায়েত, মহকুমা প্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারি দফতরে একাধিক বার অভিযোগ জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ১৭ জুন রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন প্রধান মনাশি হালদার এবং উপপ্রধান অজিত নস্কর বেআইনি নির্মাণ রুখতে ব্যর্থ হন। শুধু তা-ই নয়, রাজনৈতিক কারণে ওই নির্মাণকে কার্যত মদত দিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েতের প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি।

পরে বিষয়টি কলকাতা হাই কোর্টে গড়ায়। ২০১৪ সালে হাই কোর্ট গ্রাম পঞ্চায়েতকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে একাধিকবার বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি।

লোকায়ুক্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের রিপোর্ট, পুলিশের রিপোর্ট এবং বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধানের সাক্ষ্য থেকে অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি মিলেছে। যদিও অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রধান ও উপপ্রধানকে একাধিক বার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরা কার্যত কোনও লিখিত জবাব দেননি।

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরে জমির দখল না থাকায় এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে অভিযোগকারিণী ও তাঁর পরিবার মানসিক, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। সেই প্রেক্ষিতে মনাশি এবং অজিতকে পৃথক ভাবে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে রিপোর্টে।

এ ছাড়া দেবেন্দ্রনাথ হালদার, মনাশি এবং অজিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে ফৌজদারি মামলা শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসককে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে জমি অভিযোগকারীর উত্তরাধিকারীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে লোকায়ুক্ত।

Advertisement
আরও পড়ুন