Chandranath Rath Murder Case

নিহত আপ্তসহায়কের মায়ের সামনে কেঁদে ফেললেন শুভেন্দু! চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কথা দিলেন, বিচার হবেই

রবিবার চন্দ্রনাথ রথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে তাঁর দেশের বাড়ি, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে। সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছোন শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ২০:৫৮
Suvendu Adhikari

চন্দ্রনাথ রথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে তাঁর ছবিতে মাল্যদান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। —নিজস্ব চিত্র।

ভয়ঙ্কর সেই রাতের পর ১১ দিন অতিবাহিত। খুন হওয়া আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের শ্রাদ্ধে তাঁর বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিহতের মায়ের সঙ্গে দেখা করে ‘বিচার হবে’ বলে কথা দিলেন রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী। কান্নাভেজা চোখে চন্দ্রনাথের মা হাসিরানি রথ বললেন, ‘‘উনিও (শুভেন্দু) কেঁদেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা আছে। আশা রাখছি, ছেলের খুনের বিচার হবে।’’

Advertisement

বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর ঠিক দু’দিন হয়েছে। রাজ্যে প্রথম বার ক্ষমতা দখলের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম, দু’টি বিধানসভাতেই জয়ী শুভেন্দু। তার পর ৬ মে-র সেই রাত! উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের রাস্তায় এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। চালকও জখম হন গুলিতে। বাইকে করে এসে তাঁদের গুলি করে পালান আততায়ীরা। কিছু ক্ষণের মধ্যে চন্দ্রনাথদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকেরা শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাক্রমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু। অন্য দিকে, চন্দ্রনাথের খুনের তদন্তে রাজ্য পুলিশের সিট গঠন করে। সুদূর উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’জন এবং বক্সার থেকে এক ‘শার্প শুটার’কে গ্রেফতার করে আনে তারা। কিন্তু মূল চক্রী কে, কার ষড়যন্ত্রে এই খুন, তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে।

রবিবার চন্দ্রনাথের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে তাঁর দেশের বাড়ি, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে। সন্ধ্যায় চণ্ডীপুর এলাকায় চন্দ্রনাথের বাড়িতে পৌঁছোন শুভেন্দু। আপ্তসহায়কের ছবিতে মালা দিয়ে তিনি কথা বলেন চন্দ্রনাথের মা-সহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েন পুত্রহারা হাসি।

মুখ্যমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রনাথের মা বলেন, ‘‘উনি যে আমার বাড়িতে এসেছেন, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন উনি। অনেকেই পদ পাওয়ার পর সব ভুলে যান। কিন্তু উনি এসে কান্নাকাটি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আমাদের পাশে আছেন। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দেবেন উনি।’’

হাসি জানান, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন চন্দ্রনাথকে তিনি নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে বলেছিলেন। কিন্তু সে কথায় আমল দেননি তাঁর পুত্র। মহিলার কথায়, ‘‘হয়তো ভবানীপুরের হার মেনে নিতে পারেনি মাননীয়া। সে জন্য আমার ছেলেকে খুন হতে হল। যাঁরা আমার ছেলেকে মেরেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হোক। মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের আস্থা আছে। উনিও দোষীদের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন। আমরা বিচার চেয়েছি। সিবিআইয়ের তদন্ত এগোলে সবটা জানতে পারব।’’

Advertisement
আরও পড়ুন