পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। —ফাইল চিত্র।
পাকিস্তানে এক রাতের মধ্যে গ্রেফতার করা হল ইমরান খানের দলের ১৮০ জন নেতা-কর্মীকে। রবিবার করাচি-সহ সিন্ধ প্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাকিস্তানি পুলিশ অভিযান চালায়। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর দাবি, ওই অভিযানে তাদের ১৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তানি প্রশাসন।
চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের করাচিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পিটিআই। তার আগেই এ বার করাচি এবং সিন্ধের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হল ধরপাকড়। ইমরানের দলের দাবি, সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিতর্কিত অধ্যাদেশের আওতায় বন্দি করা হয়েছে নেতা-কর্মীদের।
পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার এই অধ্যাদেশ ঘিরে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে এই অধ্যাদেশের আওতায় কাউকে বিনা অভিযোগে আটক করতে পারে পাকিস্তানের পুলিশ। প্রায়শই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই অধ্যাদেশকে ব্যবহারের নজির রয়েছে পাকিস্তানে। বিনা বিচারে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাউকে গ্রেফতার করে বন্দি রাখা যায় এই অধ্যাদেশের আওতায়। তবে আইনশৃঙ্খা রক্ষার কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শীদের কণ্ঠরোধ করার জন্যও এই অধ্যাদেশের বহুল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে অতীতে।
সোমবার পিটিআই অভিযোগ করে, সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ ভোররাতে তাদের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৮০ জনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে। রাতে ইমরানের দল বিবৃতি দিয়ে দাবি করে, সিন্ধ প্রদেশের সরকার তাদের কর্মীদের ওই বিতর্কিত অধ্যাদেশের আওতায় এক মাসের জন্য বন্দি করার নির্দেশ দিয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই দলীয় কর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগামী রবিবারের কর্মসূচি ঠেকাতেই কর্মীদের বন্দি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
পিটিআই এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শীদের মুখ বন্ধ করার জন্যই ‘অগণতান্ত্রিক’ ভাবে আটক করা হয়েছে তাদের কর্মীদের। যদিও ইমরানের দলের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিন্ধ প্রদেশের সরকার। পিটিআই-এর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর বলে দাবি তাদের। সিন্ধের প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী শারজিল মেমনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অধ্যাদেশের আওতায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির জন্যই পিটিআই ওই ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ করছে বলে দাবি মন্ত্রীর।