বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে হাসপাতাল তৈরির জন্য কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে চিন। তৈরি হচ্ছে ১০ তলা ভবন। মূল হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি নার্সদের জন্য থাকবে ছ’তলা ডরমিটরি। অন্য কর্মচারীদের জন্যও পৃথক একটি ভবন, সেটিও ১০ তলা করা হবে। থাকবে হেলিপ্যাডও।
জানা যাচ্ছে, এই হাসপাতালের জন্য মোট ২,২৯২ কোটি টাকা (বাংলাদেশি মুদ্রায়) খরচ হবে। ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে ১৭১৯ কোটি টাকা। এবং তার সিংহভাগই বহন করবে চিন। এর জন্য ১৬৬৪ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়) ব্যয় করবে চিন। বাংলাদেশ খরচ করবে বাকি ৫৪ কোটি টাকা (ভারতীয় মুদ্রায়)। দিল্লি-ঢাকা কূটনৈতিক সমীকরণের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এই চিনা বিনিয়োগ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের সাধারণ জনতা গত কয়েক দশক ধরে উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসছেন। মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসেন তাঁরা। তবে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে পরিস্থিতি বদলেছে। দিল্লি-ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেও গত বছর যখন ঢাকার উত্তরায় স্কুলে বিমান ভেঙে পড়েছিল, তখনও ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং নার্সেরা গিয়েছিলেন বাংলাদেশে।
এ অবস্থায় চিনের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভারতের উপরে নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার? বস্তুত, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চিকিৎসার প্রয়োজনে চিনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এক বছর আগেই এ প্রবণতা শুরু হয়েছে। ওই সময়ে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন ইউনূসের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। সূত্রের দাবি, এক বছর আগেই ওই বৈঠকের সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার ‘বিকল্প’ ব্যবস্থা করে দিতে চিনকে অনুরোধ করেন তৌহিদ। জানা যাচ্ছে, ওই বৈঠকের পরই চিনের কুনমিং শহরে ৩-৪টি হাসপাতালকে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয় চিনা প্রশাসন। এ বার চিনা অনুদান নিয়ে একটি ১০ তলা হাসপাতালও তৈরি করছে বাংলাদেশ।
এই হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। জানা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহেই এই প্রকল্পে অনুমোদন দিতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। অনুমোদন পেয়ে গেলে ২০২৮ সালের মধ্যে এই হাসপাতাল প্রকল্পের বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তাদের।
কোথায় এই হাসপাতাল তৈরি হবে, তা-ও ইতিমধ্যে স্থির করে ফেলেছে তারা। হাসাপাতাল তৈরি হবে নীলফামারীতে। এই এলাকাটি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে। ভৌগোলিক ভাবে ভারতের শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন্স নেক’-এর থেকে এর দূরত্ব খুব বেশি নয়। কয়েক দিন আগে তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখ–দুর্দশা সরেজমিনে দেখতে বাংলাদেশের রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন ঢাকায় নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ঘটনাচক্রে, সেই এলাকাটিও ‘চিকেন্স নেক’-এর কাছে।